বহু মাস ধরে ব্যক্তিগত সমস্যায় আলোচনায় থাকা বলিউডের গায়ক কুমার শানুর বিরুদ্ধে তার প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা আদালত শানুর পক্ষে রায় দিয়েছে। রীতাকে ভবিষ্যতে গায়ককে নিয়ে কোনো মানহানিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রীতা ভট্টাচার্য গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শানুর বিরুদ্ধে গর্ভাবস্থার সময় তাকে মানসিক কষ্টের মধ্যে ফেলা এবং পরকীয়ার অভিযোগ তুলে তার সুনাম ক্ষুন্ন করার দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, গায়ক তার গর্ভধারণের সময়ই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে গিয়েছিলেন।
এই অভিযোগের ফলে শানুর সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি রীতার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন। শানুর আইনজীবী আদালতে উল্লেখ করেন, রীতার এই ধরনের বক্তব্য শানুর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে এবং তার পেশাগত আয়েও ক্ষতি করেছে।
আদালত রীতার এই দাবিগুলোকে ভিত্তি করে শানুর পক্ষে রায় দেয় এবং রীতাকে গায়ককে নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখার আদেশ জারি করে। এছাড়া রীতাকে অনলাইন ও টেলিভিশন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত মানহানিকর সাক্ষাৎকারগুলো মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার চলাকালে রীতা ভট্টাচার্য তার মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে আদালত রীতার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে শানুর দাবিকে স্বীকার করে রীতাকে ভবিষ্যতে গায়ককে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্ত রীতার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করে।
শানুর পক্ষে রায়ের পাশাপাশি আদালত রীতাকে অনলাইন ও টেলিভিশন মিডিয়ায় প্রকাশিত তার বিরুদ্ধে মানহানিকর বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার মুছে ফেলার আদেশ জারি করে। ফলে রীতাকে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই মামলায় রীতার পূর্বের কিছু মন্তব্যের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন মিডিয়া চ্যানেলে তার সাক্ষাৎকারের রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়। তবে আদালত রীতার এই রেকর্ডগুলোকে মানহানিকর হিসেবে বিবেচনা করে শানুর পক্ষে রায় দেয়।
মামলার মূল কারণটি উদ্ভূত হয় যখন অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দ গায়কের সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন। কুনিকার এই প্রকাশের পর রীতা ভট্টাচার্যও একই বিষয়ে সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, যা শানুর সুনাম ক্ষুন্ন করার অভিযোগের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
শানুর পক্ষে রায়ের ফলে তার সুনাম পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়া কিছু মন্তব্য ও বিশ্লেষণ এখনও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই শানু ও তার আইনজীবী ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
এই মামলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলোকে জনসাধারণের আলোচনায় আনা হলে কী ধরনের আইনি পরিণতি হতে পারে তা স্পষ্ট হয়েছে। আদালত রীতাকে গায়কের ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য না করার আদেশ দিয়ে গোপনীয়তা ও সুনামের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
শানু এবং রীতার মধ্যে চলমান আইনি লড়াই এখনো সম্পূর্ণ সমাপ্ত হয়নি, তবে বর্তমান রায় শানুর পক্ষে একটি বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে।
বিনোদন জগতের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গায়কের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি মিডিয়ার দায়িত্ব ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, মানহানি মামলায় আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ বিষয়ের মোকাবেলায় একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।



