শুক্রবার অনুষ্ঠিত অধীন-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দল ১৯৯ রান লক্ষ্য অতিক্রম করে ৭ উইকেটে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করে সুপার সিক্সে প্রবেশের অধিকার অর্জন করে। লক্ষ্যটি ১৯৯ রান, যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পরিণতি, এবং বাংলাদেশ ৫১ বল বাকি রেখে সফলভাবে তা ছাড়িয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইন‑আপ ১৯৯ রান তৈরি করতে সক্ষম হলেও তাদের স্কোর দ্রুত বাড়াতে পারার অভাব দেখা যায়। ব্যাটসম্যানরা মাঝারি গতি ও সীমিত শটের মাধ্যমে রান সংগ্রহ করে, ফলে বাংলাদেশার বোলাররা ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখতে পারে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯ রানই তাদের মোট স্কোর হয়ে থাকে, যা লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট না হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স লক্ষ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রুত গতি ও সঠিক লাইন‑লম্বা বজায় রেখে বোলাররা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যানদের শটের সুযোগ সীমিত করে। বিশেষ করে ইকবাল হোসেন ৪১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচের যোগ্যতা অর্জন করেন। তার পরিপূরকভাবে আল ফাহাদ, শাহরিয়ার আহমেদ এবং রিজান হোসেন প্রত্যেকেই দুইটি করে উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন।
ব্যাটিংয়ে দলটি সমানভাবে অবদান রাখে, যেখানে সব খেলোয়াড়ই দুই অঙ্কের স্কোর অর্জন করে। ওপেনার জাওয়াদ আবরার ৪৭ রান তৈরি করেন, যার মধ্যে তিনটি ছক্কা ও পাঁচটি চারের মাধ্যমে দ্রুত রেট বজায় রাখেন। তার আক্রমণাত্মক শৈলী শুরুর দিকে লক্ষ্যকে সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।
অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বে দলটি চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করে। আজিজুল ৬৪ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে দুইটি ছক্কা ও দুইটি চারের মাধ্যমে স্কোরকে ত্বরান্বিত করেন। তার স্থিতিশীলতা ও শটের বৈচিত্র্য ব্যাটিং লাইন‑আপকে সমর্থন করে এবং লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
যদিও জাওয়াদ ও আজিজুলের বড় স্কোর দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়, তবুও অন্যান্য ব্যাটসম্যানদেরও দুই অঙ্কের অবদান লক্ষ্যকে সুনির্দিষ্টভাবে বাড়িয়ে দেয়। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে লক্ষ্য থেকে ৫১ বল বাকি রেখে চূড়ান্ত রানে পৌঁছাতে সক্ষম করে।
বোলিং দিক থেকে ইকবাল হোসেনের ৩ উইকেটের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি, আল ফাহাদ, শাহরিয়ার আহমেদ এবং রিজান হোসেন প্রত্যেকেই দুইটি করে উইকেট নিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন করেন। তাদের সমন্বিত বোলিং চাপ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইন‑আপকে ভেঙে দেয় এবং স্কোরকে সীমাবদ্ধ রাখে।
এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ অধীন-১৯ দল সুপার সিক্সে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করে, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেয়। দলটি এখন সুপার সিক্সে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে প্রস্তুত।
সুপার সিক্সে পরবর্তী ম্যাচে দলটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, তবে আজকের পারফরম্যান্স থেকে প্রাপ্ত আত্মবিশ্বাস ও দলগত সংহতি তাদের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে।



