ইউএন মানবাধিকার পরিষদ শুক্রবার একটি জরুরি সেশন আয়োজন করবে, যেখানে ইরানে প্রতিবাদকারীদের ওপর প্রয়োগ করা ‘ভয়াবহ সহিংসতা’ নিয়ে আলোচনা হবে। সেশনের মূল লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন ও দমনমূলক পদক্ষেপের নথি তৈরি করা।
এই প্রতিবাদগুলো ২০২২ সালের পর থেকে ইরানের ধর্মীয় শাসনের মুখোমুখি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে সশস্ত্র দমন ও অনিয়মিত গুলিবিদ্ধের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ, সহ অপ্রত্যাশিত নাগরিক, নিহত হয়েছে।
সেশনকে সমর্থন জানিয়ে ৫০টিরও বেশি দেশ একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যার খসড়া আইসল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশন প্রস্তুত করেছে। এই চিঠিতে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে রিপোর্ট করা সহিংসতার ব্যাপকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাক্তন ইউএন প্রসিকিউটর পায়াম আখাভান, যিনি ইরান-কানাডিয়ান জাতীয়তা ধারণ করেন, সেশনের পূর্বে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান অপরাধের মাত্রা পূর্বের কোনো ঘটনার তুলনায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ইরানে ‘পরিবর্তনের মুহূর্ত’ গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আখাভান আরও উল্লেখ করেন যে, যদি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রয়োগ করা হয়, তবে তা নুরেমবার্গ ট্রায়ালের মতো একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে পারে, যেখানে যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বিচার করা হয়েছিল।
ইরানের কূটনৈতিক মিশন এই সেশনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সরকারী সূত্রগুলো এখনও এই জরুরি সেশনের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
ইরানের সরকারী বিবৃতি অনুযায়ী, বিদ্রোহ ও মৃত্যুর দায়িত্ব ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ’দের ওপর আরোপ করা হয়েছে, যাদের সমর্থন শরণার্থী বিরোধী গোষ্ঠী ও বিদেশি শত্রু, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে আসছে।
প্রস্তাবিত রেজলিউশনটি ২০২২ সালে গৃহীত একটি তদন্তের ম্যান্ডেটকে দুই বছর বাড়িয়ে দেয়ার দাবি রাখে, যা পূর্বের প্রতিবাদ তরঙ্গের পর চালু করা হয়েছিল। এছাড়া, এটি ডিসেম্বর ২৮ তারিখে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক অশান্তির ওপর একটি জরুরি তদন্তের সূচনা করবে, যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়।
এই নতুন তদন্তের লক্ষ্য হল মানবাধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের নথি তৈরি করা, যা আন্তর্জাতিক আদালতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে, বর্তমান ইউএন তহবিল সংকটের কারণে এই তদন্তের আর্থিক ব্যয় কিভাবে পূরণ হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। পূর্বে অন্যান্য তদন্তের দেরি তহবিলের ঘাটতির ফলে ঘটেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশা করে যে এই জরুরি সেশন ইরানের সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনবে এবং দমনমূলক নীতিগুলোর ওপর চাপ বাড়াবে। তারা উল্লেখ করেছে যে, সেশনটি ইরানের কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউএন মানবাধিকার পরিষদের জরুরি সেশন শেষে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্ভাব্য অতিরিক্ত রেজলিউশন ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দিকে নজর দিবে, যা ইরানের নীতি পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে।
সেশনটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত, এবং এর ফলাফল ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



