রাজস্থান হাইকোর্ট শুক্রবার আলওয়ার জেলার বারোদামেভে জেলখানায় থাকা দুই দোষী খুনিকে বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল অনুমোদন করেছে। প্রিয়া শেঠ (নেহা শেঠ নামেও পরিচিত) ও হনুমান প্রসাদ উভয়েই গৃহহত্যা ও অন্যান্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এবং বর্তমানে সাঙ্গান ওপেন জেলে আটক। আদালতের সিদ্ধান্তের পর দুজনই পারিবারিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে বিয়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালের ২ মে একটি পরিকল্পিত গৃহহত্যায় জড়িত ছিলেন। তিনি তার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা এবং সহযোদ্ধা মিশ্রণসহ দুজনকে সঙ্গে নিয়ে দুশ্যান্ত শর্মাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ সংগ্রহের পর দুশ্যান্তকে হত্যা করে তার দেহকে স্যুটকেসে ভরে পাহাড়ে ফেলে দেন। দেহের চেনা না যায় এমনভাবে মুখ কেটে ফেলা হয় এবং ফ্ল্যাটের সব প্রমাণ ধ্বংস করা হয়। পরের দিন দেহ উদ্ধার হয় এবং তিনজনই গ্রেফতার হন। প্রিয়ার অপরাধের শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড, যা তাকে সাঙ্গান ওপেন জেলে পাঠানো হয়।
হনুমান প্রসাদের অপরাধ ভিন্ন। তিনি তার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এবং একই জেলে শাস্তি পাচ্ছেন। উভয় অপরাধীর অপরাধের প্রকৃতি ও শাস্তি একই রকম, তবে তাদের অপরাধের পটভূমি ও প্রেরণা আলাদা।
প্রায় ছয় মাস আগে উভয়ই সাঙ্গান ওপেন জেলে একে অপরকে চেনেন। ওপেন জেলটি সাধারণ জেল থেকে আলাদা, যেখানে বন্দিদের তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা ও সুবিধা থাকে। একই কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের পরিণতিতে দুজনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
বিবাহের জন্য আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্যারোলের শর্তে দুজনকে ১৫ দিনের মধ্যে পারিবারিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। প্যারোলের সময়কালে তারা জেলখানার বাইরে থাকতে পারবেন, তবে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। প্যারোলের শেষে আবার জেলে ফিরে আসতে হবে, না হলে প্যারোল বাতিল হয়ে শাস্তি বাড়তে পারে।
এই ঘটনা রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রাজস্থান পুলিশ ও জেল প্রশাসন উভয়ই জেলখানার নিরাপত্তা ও বন্দীর অধিকার নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, অপরাধীর মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা জেলখানার পরিবেশে অস্বাভাবিক নয়, তবে তা সামাজিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে জটিলতা তৈরি করে।
অধিকন্তু, আদালত প্যারোল অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উভয় পক্ষের জন্য শর্তাবলী নির্ধারণের প্রস্তাব রেখেছেন। প্যারোলের সময়কালে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপ না করা, নির্ধারিত সময়ে জেলখানায় ফিরে আসা এবং আইনগত নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। প্যারোলের শর্ত লঙ্ঘন হলে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি বাড়তে পারে।
বিবাহের অনুষ্ঠানটি আলওয়ারের স্থানীয় ধর্মীয় স্থানে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। উভয়ই জেলখানার বাইরে গিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুসারে বর্ণনা করা হবে। অনুষ্ঠানের পর পারিবারিক সমাবেশে কিছু আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত থাকবে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে।
এই মামলায় আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: অপরাধের শাস্তি অপরিবর্তনীয় হলেও, মানবিক দিক থেকে বন্দীর মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হবে। প্যারোলের মাধ্যমে দুজনকে বিয়ের সুযোগ দেওয়া হলেও, তা কেবলমাত্র নির্দিষ্ট শর্তে সীমাবদ্ধ।
বিবাহের পর উভয়ই আবার জেলে ফিরে আসবে এবং তাদের শাস্তি চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কোনো আপিল বা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চললে তা আদালতের রায়ের ভিত্তিতে হবে। বর্তমানে উভয়ই জেলখানার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করছেন এবং প্যারোলের শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি রাজস্থান হাইকোর্টের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আইনি প্রয়োগের সমন্বয়কে তুলে ধরে, যেখানে অপরাধীর শাস্তি বজায় রেখে নির্দিষ্ট মানবিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় কীভাবে প্যারোল ও মানবিক সুবিধা প্রদান করা হবে, তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নীতি নির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে।



