বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, বোর্ডের বর্তমান ডিরেক্টরকে নিয়ে ম্যাচ‑ফিক্সিংয়ের অভিযোগের ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালু করা হবে। অভিযোগগুলো প্রকাশের পর থেকে বিসিবি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
বিসিবি উল্লেখ করেছে যে, ডিরেক্টরের পদে থাকা অবস্থায় তিনি কোনো অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন কিনা তা নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে ডিরেক্টরকে কোনো সরকারি দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটে ফিক্সিং সংক্রান্ত অভিযোগের বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও অ্যান্টি‑করাপশন ইউনিটের (এসিইউ) কঠোর নীতি। বিসিবি পূর্বে একই ধরনের অভিযোগে কয়েকটি তদন্ত পরিচালনা করেছে এবং সবসময়ই স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায় যখন কিছু সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায় যে, তিনি সম্ভাব্য ম্যাচ‑ফিক্সিং স্কিমে জড়িত থাকতে পারেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিসিবি তৎক্ষণাৎ আইসিসি ও দেশের সিআইডি (সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) এর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্তের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে।
সিআইডি ইতিমধ্যে ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ডিরেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। সাক্ষাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি বিসিবিকে প্রাসঙ্গিক রিপোর্ট প্রদান করেছে, যা এখন তদন্ত কমিটির হাতে রয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন ডিরেক্টরের কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিসিবি ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে একটি স্পষ্টীকরণ জানিয়েছিল যে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না এবং সকল প্রাসঙ্গিক পক্ষকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানায়। সেই স্পষ্টীকরণে বোর্ডের অ্যান্টি‑করাপশন নীতি ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
তদন্তের সময়সীমা সম্পর্কে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিসিবি জানিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর দ্রুতই ফলাফল জানানো হবে। ফলাফল প্রকাশের পর যদি ডিরেক্টরকে দোষী প্রমাণিত করা হয়, তবে তিনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, যার মধ্যে পদত্যাগ বা আইনি পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত, সম্মুখীন হতে পারেন।
বিসিবি এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে এবং বলেছে যে, কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অ্যান্টি‑করাপশন ইউনিটের কাজের পরিধি বাড়িয়ে আরও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
ক্রিকেট প্রেমিকদের জন্য এই খবরটি উদ্বেগজনক, তবে বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে, তদন্তের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে। ভবিষ্যতে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিসিবি এই তদন্তের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সামগ্রিক অ্যান্টি‑ফিক্সিং নীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রিকেটের সুনাম রক্ষা এবং খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, বিসিবি উল্লেখ করেছে যে, তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট প্রদান করা হবে, যাতে ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে কোনো অনৈতিক কার্যকলাপ রোধ করা সম্ভব হবে।



