হবোর নতুন ডকুমেন্টারি সিরিজে জাড আপাটো মেল ব্রুক্সের জীবনের অজানা দিকগুলো উন্মোচন করছেন। আপাটো, যিনি নিজেকে ব্রুক্সের কাজের বিশেষজ্ঞ বলে মনে করতেন, হোস্টেড চ্যানেল থেকে ডকুমেন্টারি তৈরির প্রস্তাব পেয়ে প্রকল্পে হাত দিলেন। তিনি পূর্বে তৈরি কিছু ব্রুক্স সম্পর্কিত কাজ দেখেছেন, তবে ব্রুক্সের ব্যক্তিগত অনুভূতি, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, বিবাহ ও জীবনের শিক্ষা সম্পর্কে সরাসরি কথা শোনার সুযোগ পাননি, যা তিনি ডকুমেন্টারির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মেল ব্রুক্স এই ধারণা গ্রহণ করেন এবং আপাটো ও সহ-নির্দেশক মাইক বোনফিগ্লিও একসাথে “Mel Brooks: The 99 Year Old Man!” শিরোনামের দুই ভাগের ডকুমেন্টারি তৈরি করেন। প্রথম অংশটি বৃহস্পতিবার সম্প্রচারে প্রকাশিত হয়, আর শেষ অংশটি ২৩ জানুয়ারি রাতে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়। এই সিরিজে কমেডি জগতের বহু পরিচিত মুখ উপস্থিত, যার মধ্যে রোব রেইনারের সাক্ষাৎকারও অন্তর্ভুক্ত।
রোব রেইনারের সাক্ষাৎকারটি তার এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গারকে ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ করে হত্যা করা হয়ার আগে রেকর্ড করা হয়। রেইনারের পিতা, প্রখ্যাত কমেডিয়ান কার্ল রেইনার, মেল ব্রুক্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন; তাই রেইনারের পরিবারিক ও পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ডকুমেন্টারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রেইনারের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও ব্রুক্সের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিশদ বিবরণ দর্শকদের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
ডকুমেন্টারির পাশাপাশি আপাটো সম্প্রতি হলিউড রিপোর্টার পডকাস্ট “I’m Having an Episode”-এ ব্রুক্সের চলচ্চিত্র শিল্পে অবস্থান ও স্টুডিও কমেডির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ব্রুক্সের কাজের মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরিয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে বিশাল সাফল্য অর্জনকারী চলচ্চিত্র রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে কমেডির নতুন সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
আপাটো নিজে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রথমবার মেল ব্রুক্সের কাজের সঙ্গে পরিচিত হন ১৯৭৪ সালে, যখন তিনি “Young Frankenstein” ও “Blazing Saddles” সিনেমা থিয়েটারে দেখেছিলেন। সেই সময় ব্রুক্সকে তিনি সমসাময়িক সঙ্গীত জগতে বেয়ন্সের মতো বিশাল প্রভাবশালী হিসেবে বর্ণনা করেন, যা কমেডি ও বিনোদনের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
ডকুমেন্টারির প্রথম অংশে ব্রুক্সের শৈশব, ক্যারিয়ার এবং তার স্বতন্ত্র হাস্যরসের উত্স সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে তার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পে তার অবদান, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। দু’টি অংশই হোস্টেডের মূল চ্যানেলে একাধিকবার পুনঃপ্রচারিত হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
ডকুমেন্টারিতে উপস্থিত অন্যান্য কমেডি ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রবার্ট ডি নিরো, জোয়েল কোহেন এবং স্যাম রোডিনের মত নাম রয়েছে, যারা মেল ব্রুক্সের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও তার প্রভাব সম্পর্কে ব্যক্তিগত মতামত শেয়ার করেছেন। এই সাক্ষাৎকারগুলো ডকুমেন্টারির বিষয়বস্তুকে সমৃদ্ধ করে এবং ব্রুক্সের শিল্পকর্মের বহুমুখী দিকগুলোকে উন্মোচন করে।
ডকুমেন্টারির নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আপাটো এবং বোনফিগ্লিও ব্রুক্সের ব্যক্তিগত আর্কাইভ, পুরনো ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করে তার জীবনের গভীরতর স্তরে পৌঁছেছেন। তারা বিশেষভাবে ব্রুক্সের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অভিজ্ঞতা ও তার পারিবারিক জীবনের ওপর আলোকপাত করেছেন, যা পূর্বের কোনো ডকুমেন্টারিতে যথেষ্টভাবে প্রকাশ পায়নি।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে আপাটো মেল ব্রুক্সের কমেডি জগতের অগ্রদূত হিসেবে অবস্থানকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রুক্সের কাজের মূল সত্তা হল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হাস্যরসের অনুসন্ধান, যা আজকের তরুণ কমেডিয়ানদের জন্যও প্রেরণার উৎস।
ডকুমেন্টারির শেষ অংশে ব্রুক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তার ৯৯তম জন্মদিনের উদযাপনকে কেন্দ্র করে একটি উষ্ণ সমাপ্তি দেখা যায়। তিনি দর্শকদের সঙ্গে তার জীবনের শিক্ষা ও হাস্যরসের শক্তি ভাগ করে নেন, যা দর্শকদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তা হয়ে দাঁড়ায়।



