আজ দুপুরে বারিশাল শহরের সাগার্ডি বাজার থেকে রূপাতলি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জনসাধারণের আউটরিচ প্রোগ্রামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েব-এ-আমের ও বারিশাল‑৫ের প্রার্থী মুফতি সাইয়দ মুহাম্মদ ফয়েজুল করিম জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার দল শাসনে আসলে কীভাবে কাজ করবে তা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নতি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং সরকারী ক্ষমতা পেলে এই ক্ষেত্রগুলোতে সর্বোচ্চ সততা নিয়ে কাজ করা হবে।
মুফতি ফয়েজুলের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে শাসন হলে সামাজিক কল্যাণের ভিত্তিতে, ইসলামী নীতি অনুসারে পরিচালিত নীতি গ্রহণ করা হবে, যা দুর্নীতি, সহিংসতা ও বৈষম্যমুক্ত একটি বারিশাল গড়ে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন, জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে এই দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই এবং তাই তিনি বারিশালের ভবিষ্যৎ গঠনে এই দৃষ্টিকোণকে অগ্রাধিকার দেবেন।
প্রোগ্রামের সময় মুফতি ফয়েজুল বাজারের দোকানদার, শ্রমিক, পথচারী ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন। তিনি তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা শোনার জন্য সময় দেন এবং প্রত্যেকের কথা মনোযোগ সহকারে গ্রহণ করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি জনগণের সমস্যার সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেন, বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য স্থানীয় উদ্যোগের সমর্থন এবং নৈতিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
আউটরিচ প্রোগ্রামের সময় উপস্থিত জনগণ থেকে উচ্ছ্বাসপূর্ণ সাড়া দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীরা মুফতি ফয়েজুলের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেন এবং তার বক্তৃতা শোনার পর ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট হয় যে, তার বারিশাল-৫ ও বারিশাল-6 নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাপক জনসামর্থ্য পাচ্ছে।
মুফতি ফয়েজুল প্রোগ্রামের সমাপ্তিতে সকল ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষের সহযোগিতা ও প্রার্থনা চেয়ে জানান, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দেশের উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রচারণা কেবল তার নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য নয়, বরং পুরো দেশের জন্য একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যের অংশ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে। মুফতি ফয়েজুলের বারিশাল-৫ ও বারিশাল-6 উভয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার কৌশলগত অবস্থানকে নির্দেশ করে, যেখানে তিনি স্থানীয় সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান। তার এই প্রচারণা যদি সফল হয়, তবে বারিশাল অঞ্চলে ইসলামী নীতি ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়বে এবং দেশের অন্যান্য রাজনীতিকদেরও এ ধরনের নীতি গ্রহণে প্রভাবিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মুফতি ফয়েজুলের আজকের প্রকাশনা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্বাচনী পরিকল্পনার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে, একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও সমানাধিকারের বারিশাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তার নীতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহ করা।



