বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান অডিট কমিটির চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি ম্যাচ‑ফিক্সিং সন্দেহের পর নেওয়া হয়েছে, যা চলমান ১২তম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)‑এর সঙ্গে যুক্ত বলে মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে। মুখলেসুরের পদত্যাগের খবর বোর্ডের এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের মাধ্যমে জানানো হয়। তিনি এখনো বোর্ডের সাধারণ সদস্যপদ বজায় রাখবেন।
মুখলেসুর রহমান গত বছর অক্টোবর ৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে নির্বাচিত হন। তার নির্বাচনের পর থেকে তিনি বিভিন্ন কমিটিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, বিশেষত অডিট কমিটিতে। নির্বাচনের সময় তিনি স্বচ্ছতা ও আর্থিক নীতিমালার প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নাম ম্যাচ‑ফিক্সিং অভিযোগে উঠে এসেছে।
মিডিয়া সূত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে মুখলেসুরকে ১২তম বিপিএল‑এর কিছু ম্যাচে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই লিগটি আজ শেষের দিকে পৌঁছাচ্ছে এবং সমগ্র দেশব্যাপী নজরদারির মধ্যে রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্ট না হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে যে তিনি কিছু দলের সঙ্গে অনিয়মের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই তথ্যগুলোকে ভিত্তি করে বিসিবি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিপিএল‑এর ১২তম সিজন আজ শেষ হবে, যেখানে শীর্ষ চার দল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। লিগের সমাপ্তি আগে থেকেই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং ম্যাচ‑ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিসিবি এই সময়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়, যাতে লিগের ফলাফলকে কোনো সন্দেহের মুখে না আনা হয়। তাই অডিট কমিটির চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিসিবি একটি অভ্যন্তরীণ সভায় মুখলেসুরের পদত্যাগ নিশ্চিত করেছে। সভায় উপস্থিত এক সদস্য জানান, “হ্যাঁ, তিনি অডিট কমিটির চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন”। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদেরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা একমত যে, এই ধরনের অভিযোগের মুখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পদত্যাগের পর, বিসিবি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি অখণ্ডতা ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে হস্তান্তর করেছে। মার্শাল, যিনি বিসিবি অখণ্ডতা ইউনিটের চেয়ারম্যান, আগামীকাল থেকে তদন্ত শুরু করবেন। ইউনিটের দায়িত্ব হল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই প্রক্রিয়ায় সকল প্রাসঙ্গিক নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিসিবি জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য অখণ্ডতা ইউনিটকে প্রদান করেছে। ইউনিটের তদন্তের সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে তারা দ্রুত ফলাফল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্তের ফলাফল যদি প্রমাণ করে যে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিসিবি এই পদক্ষেপকে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অডিট কমিটির চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে, অখণ্ডতা ইউনিটের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
বিপিএল‑এর সমাপ্তি পরবর্তী দিনগুলোতে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলোতে দর্শক ও মিডিয়ার দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত থাকবে, এবং বিসিবি নিশ্চিত করতে চায় যে সব কিছু স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হবে। অডিট কমিটির নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
সারসংক্ষেপে, মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান অডিট কমিটির চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে বিসিবি একটি সংকটময় মুহূর্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। অখণ্ডতা ইউনিটের ত্বরিত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং ক্রিকেটের ন্যায়বিচার রক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে বিসিবি এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



