গৌরনদী উপজেলায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সোবহান ২৪শে ফেব্রুয়ারি বিকেলে পিঙ্গলাকাঠি বাজার ও সরিকল বন্দর বাজারে তার প্রচারমূলক কার্যক্রমে বাধা ও মারধরের অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।
সোবহান, যিনি ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন, উল্লেখ করেন যে সকালবেলায় পিঙ্গলকাঠি বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রথম দফায় তার প্রচার বন্ধ করার চেষ্টা করে। পরে দুপুরে সরিকল বন্দর বাজারেও একই রকম বাধা আরোপ করা হয়।
এই ঘটনায় গৌরনদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম ফকির ও কামাল হোসেনকে মারধরের শিকার করা হয়। উভয়কে শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি মোবাইল ও মানিব্যাগও নেওয়া হয়।
আবদুস সোবহান জানান, “যদি নির্বাচন কমিশন একক দলকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ প্রচার না করতে বলে, তবে আমরা তা মেনে নেব না। আমি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করিনি, দোয়া চেয়েছি। যদি আমি খারাপ মানুষ, দুষ্ট লোক, সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ হই, তবে আমাকে ভোট দেবেন না।” তিনি নিজের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
বরিশাল-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, যিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন বলে জানান। স্বপনকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলের উত্তর দেননি।
স্থানীয় প্রশাসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ হাকিম, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠান। তারা প্রার্থীর প্রচার চালানোর ব্যবস্থা করে, তবে বাধা দেয়া ব্যক্তিদের সনাক্ত করা যায়নি।
ইব্রাহিমের মতে, প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে এবং তাকে তদন্ত কমিটিতে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে নির্বাচনী পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
গৌরনদী উপজেলায় নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন এমন ধরনের বাধা ও সহিংসতা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, যদি নির্বাচন কমিশন একক দলকে বাদ দিয়ে অন্য দলকে অনুমোদন না দেয়, তবে প্রচার বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয়ই ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীও গৌরনদী উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে এই ধরনের ঘটনা প্রার্থী ও সমর্থকদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার বাধা ও সহিংসতা নির্বাচনী ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।



