ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেবের নেতৃত্বে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মেহেরপুরে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি স্থানীয় উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দেশের স্টার্টআপ পরিবেশকে শক্তিশালী করা।
কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার পেছনে তিনটি মূল লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম লক্ষ্য হল স্থানীয় আইটি-ভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করে তাদেরকে স্টার্টআপে রূপান্তরিত করা। এতে প্রযুক্তিগত সহায়তা, কাজের স্থান এবং নেটওয়ার্ক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের পথ প্রশস্ত হয়। প্রশিক্ষণ মডিউলগুলোকে দেশের বর্তমান বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সাজানো হবে।
তৃতীয় লক্ষ্য হল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সেতু গড়ে তোলা, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব প্রকল্পের মাধ্যমে শিখতে পারে এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এই সংযোগের মাধ্যমে তত্ত্ব ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটবে।
সেন্টারটিতে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, স্টার্টআপ কাজের স্থান এবং ১৫০ আসনের অডিটোরিয়াম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ল্যাবের সরঞ্জামগুলো সর্বশেষ সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার দিয়ে সজ্জিত, যা উদ্যোক্তাদের প্রোটোটাইপ তৈরি ও পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করে।
প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো জাতীয় স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NSDA) দ্বারা যাচাই করা হবে, ফলে সেগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই স্বীকৃত হবে। এই যাচাইকরণ শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেশনকে আরও মূল্যবান করে তুলবে এবং চাকরি বা ফ্রিল্যান্স প্রকল্পে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়াবে।
কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা এখন মেহেরপুরে বসেই সরকারি স্টার্টআপ ফান্ড এবং বিনিয়োগ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে। পূর্বে এই সুবিধাগুলো প্রধানত ঢাকার কেন্দ্রিয় এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, যা প্রান্তিক অঞ্চলের জন্য প্রবেশের বাধা সৃষ্টি করত।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেবের মতে, এই ব্যবস্থা ঢাকাকেন্দ্রিক বৈষম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা এবং ব্যবসা মডেলগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বিকাশের সম্ভাবনা বাড়বে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটির সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল হাসান সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি প্রকল্পের গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব উল্লেখ করেন, আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার মেহেরপুরের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই কেন্দ্রের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন কেবল মেহেরপুরের নয়, পুরো দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ কেন্দ্রগুলো অন্যান্য প্রান্তিক অঞ্চলে স্থাপন করা হলে, দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।



