স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসের ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রেস সম্মেলনে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত “শান্তি বোর্ড”ে স্পেন অংশ নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘের প্রতি অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ট্রাম্পের “শান্তি বোর্ড”ের লক্ষ্য হল বিশ্বজুড়ে সংঘর্ষের সমাধানে মধ্যস্থতা করা, যুদ্ধবিরতির পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় এবং পুনর্নির্মাণ কাজের সমন্বয় করা। এই ধারণা তার গাজা শান্তি পরিকল্পনা থেকে উদ্ভূত, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। তবে ঐ অনুষ্ঠানে কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ সদস্য দেশ উপস্থিত না থাকলেও, হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া ছাড়া সব ইউরোপীয় দেশ উপস্থিত ছিলেন না।
স্পেনের প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হিসেবে সানচেজ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের কাঠামো এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি দেশের অঙ্গীকার উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, বোর্ডে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ না থাকায় স্পেনের অংশগ্রহণে আপত্তি রয়েছে।
ইসরায়েল ইতিমধ্যে বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও এতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই দেশগুলো ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে চায়।
স্পেনের সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোরও একই রকম উদ্বেগ থাকতে পারে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
সানচেজের মন্তব্যের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বোর্ডের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা জোর দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের সমাধানে জাতিসংঘের ভূমিকা অগ্রাধিকার পাবে।
ট্রাম্পের প্রশাসন এই বোর্ডকে একটি বিকল্প কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা জাতিসংঘের প্রচলিত প্রক্রিয়ার বাইরে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। তবে স্পেনের মতো বড় ইউরোপীয় দেশের প্রত্যাখ্যান এই ধারণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে, শান্তি বোর্ডের কার্যক্রম কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতিপথ তৈরি হতে পারে।
স্পেনের সরকার ভবিষ্যতে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নিতে ইচ্ছুক কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সানচেজের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দেশের নীতি বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অটল থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থের সমন্বয় সাধন করা যায়।
শান্তি বোর্ডের কার্যক্রম এবং স্পেনের প্রত্যাখ্যানের প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পেনের বহুপাক্ষিক নীতি বজায় রাখার সংকল্প স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।



