বুধবার সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের তেবিং টিঙ্গি শহরে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও টয়োটা অ্যাভানজা মডেল মিনিবাসের সংঘর্ষে নৌকা-সদৃশ এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে আবদুল হামিদ সড়কের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
এই ধাক্কায় মোট নয়জনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটজন যাত্রী সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে, আর গাড়ির চালক গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহত ও নিহত সকলকে তেবিং টিঙ্গি ভায়াংকারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগের প্রধান সেকেন্ড ইন্সপেক্টর হেরু উইবো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি জানিয়ে বলেন, সংঘর্ষের তীব্রতার ফলে যাত্রীরা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে, ফলে অধিকাংশের গুরত্বপূর্ণ আঘাত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাড়ির চালককে তীব্র শক ও শারীরিক আঘাতের কারণে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিনিবাসে যাত্রা করা যাত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের পরিবার বাতুবারা জেলার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছিল। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়, দুর্ঘটনা কেবলমাত্র রাস্তায় নয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
অধিক তদন্তের জন্য তেবিং টিঙ্গি পুলিশ ট্রাফিক ইউনিটের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তারা রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রেনের গতি, এবং গাড়ির চালকের গতি বিশ্লেষণ করবে। তদুপরি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে রেলপথের অরক্ষিত পারাপারগুলোতে সিগন্যাল, গেট বা অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম স্থাপনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হবে।
ইন্দোনেশিয়ার রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে পূর্বে বহুবার সমালোচনা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রেল কোম্পানি নিরাপত্তা মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে গাড়ি ও ট্রেনের সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে স্বয়ংক্রিয় বাধা ব্যবস্থা, অ্যালার্ম সিস্টেম এবং সঠিক চিহ্নিতকরণ অপরিহার্য।
আইনি দিক থেকে, রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে গাড়ি চালানো এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানা উভয়ই অপরাধের আওতায় পড়ে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে, গাড়ির মালিক, চালক বা রেলওয়ে সংস্থার বিরুদ্ধে দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে।
স্থানীয় জনগণ ও পরিবারিক সদস্যরা শোক প্রকাশ করে, মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তেবিং টিঙ্গি পৌরসভা এই ঘটনার পর জরুরি সেবা ও শোকসেবা প্রদান করেছে, এবং মৃতদের শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করছে।
এই দুর্ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোকে সুরক্ষিত করার দিকে মনোযোগ দেবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ট্র্যাজেডি রোধ করা যায়।



