বগুড়া জেলায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য সাতটি আসনের মধ্যে বগুড়া‑৬ (সদর) আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বাসদার সদস্যসচিব ও আইনজীবী দিলরুবা নুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এই নির্বাচনে নিজের নাম ও নীতি তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
দিলরুবা নুরী, যিনি বাসদার জেলা শাখার সদস্যসচিব পদে অধিষ্ঠিত, বগুড়া‑৬ আসনে নারী প্রার্থীরূপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী, যা স্থানীয় রাজনীতিতে লিঙ্গ সমতা নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
প্রচারণা চলাকালীন তিনি হেঁটে হেঁটে, কখনও পিক‑আপ ভ্যানের মাইক্রোফোনে কথা বলে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। জনসমাগমে উপস্থিত হয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন ও ভোটের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন, যা তার প্রচারণার মূল কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বগুড়া‑৬ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫৪,০৪৩, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,২২,৭৯৬, নারী ভোটার ২,৩১,২৩৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ভোটার ১০ জন। নারী ভোটার সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি, যা এই আসনে নারী প্রার্থীর জন্য সম্ভাব্য সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচিত ছিলেন। তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিনিধিত্ব এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে গঠন করেছে এবং বর্তমান প্রার্থীদের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
দিলরুবা নুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামের শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান (সোহেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নোমান মো. মামুনুর রশিদ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল‑জেএসডির আব্দুল্লাহ আল‑ওয়াকি এই নির্বাচনে নাম লিখিয়েছেন। প্রত্যেক প্রার্থী নিজ নিজ দলীয় নীতি ও স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দিলরুবা নুরী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন, “বগুড়ায় অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার থাকলেও তাদের বেশির ভাগ ভোটের বিষয়ে সচেতন নয়। নারী অধিকার সম্পর্কে তারা পর্যাপ্ত তথ্য পায় না।” তিনি নারী ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “পুরুষ ভোটারদের মধ্যে এখনও এমন ধারণা রয়ে গেছে যে নারী স্বয়ংসংরক্ষিত। অনেক নারী জনসম্মুখে আসতে ও ভোট দিতে বাধা অনুভব করেন।” এই মন্তব্য থেকে তিনি স্থানীয় সমাজে লিঙ্গভিত্তিক বাধা ও সচেতনতায় ফাঁক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
নুরী বলেন, “নির্যাতিত‑নিপীড়িত নারী সমাজ আমাকে গ্রহণ করেছে এবং আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।” এই বক্তব্য তার সমর্থকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে এবং তার জয় সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজ নিজ প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন রূপে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কিছু দলীয় সভা, রেলিফ ক্যাম্পেইন এবং স্থানীয় নেতাদের সমর্থন নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি দিলরুবা নুরী জয়লাভ করেন তবে বগুড়া‑৬ আসনে প্রথমবারের মতো নারী প্রতিনিধি সংসদে প্রবেশ করবে, যা লিঙ্গ সমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। অন্যদিকে, তার জয় না হলে বর্তমান পুরুষ‑প্রধান রাজনৈতিক কাঠামো বজায় থাকবে।
নির্বাচনের ফলাফল বগুড়া জেলার রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে। এই প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সিদ্ধান্ত কেবল পার্টি নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত নীতি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করবে।
নির্বাচন তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে সকল প্রার্থী ভোটারদের সঙ্গে শেষ পর্যায়ের সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।
বগুড়া‑৬ আসনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা লিঙ্গ, বয়স এবং সামাজিক স্তরের বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে, এবং ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।



