ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা, ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সারস্বতী পূজা উপলক্ষে একটি বক্তব্যে জোর দিয়ে বললেন যে বাংলাদেশ ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে নয়, সব মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাসস্থান। তিনি এই মন্তব্য দেশের ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে করেন এবং জাতীয় সংহতির গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
সারস্বতী পূজা, যা জ্ঞান ও শিল্পের দেবীকে সম্মান জানায়, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়। এই পবিত্র উৎসবের সময় ড. ইউনূস হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে, তাদের সাংস্কৃতিক অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসে ধর্ম, জাতি ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ একসাথে বসবাসের উদাহরণ তুলে ধরেন। শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী পারস্পরিক সহনশীলতা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাজ গড়ে তুলেছে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
ড. ইউনূসের মতে, হিন্দু ধর্মে দেবী সারস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই দেবী বিদ্যা, সঙ্গীত ও শিল্পের রক্ষক, এবং মানুষের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে আছেন।
সারস্বতী পূজা উপলক্ষে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষার লক্ষ্য কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং সমাজের সমগ্র উন্নয়ন হওয়া উচিত। শিক্ষিত মানুষকে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে, জ্ঞানকে ভাগ করে নিতে এবং দুর্বলদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করা উচিত।
এছাড়া, তিনি সকল নাগরিককে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থনের আহ্বান জানান। দুর্বল ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, সামাজিক ন্যায়বিচার বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলাই দেশের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে ড. ইউনূস হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সকল বাংলাদেশের নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি দেশের বহুমুখী সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে, একতা ও ঐক্যের মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেন।
এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সরকার ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বজায় রেখে সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের প্রকাশনা জাতীয় সংহতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যায়।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রধান বিরোধী দলগুলোও দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমন্বিত উন্নয়নের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বজায় রাখা দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি।
ড. ইউনূসের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে ধর্মীয় সংহতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা হ্রাসে সহায়তা করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো এই ধরনের বার্তাকে তাদের নির্বাচনী কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সারস্বতী পূজা বার্তা ধর্মীয় সমন্বয়, শিক্ষার সামাজিক দায়িত্ব এবং সকলের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত। তার বক্তব্য দেশের ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।



