অ্যাপল এবং ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA) অনুসরণে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। বিকল্প অ্যাপ স্টোর সেটঅ্যাপের বন্ধের পর, অ্যাপল কমিশনকে ‘রাজনৈতিক দেরি কৌশল’ ব্যবহার করে কোম্পানির ওপর তদন্ত ও জরিমানা আরোপের অভিযোগ জানায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন বাজার নিয়ম, DMA, ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপলকে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ মার্কেটপ্লেস অনুমোদন করতে বাধ্য করা হয়। এই বিধান অনুসারে, গেটকিপার হিসেবে কাজ করা বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর পছন্দের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেমের প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
অ্যাপল এই বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়ার স্বীকারোক্তি জানিয়ে, এক মিলিয়ন ডাউনলোড অতিক্রমের পর প্রতি ইনস্টলেশন €০.৫০ ফি এবং অন্যান্য শর্ত আরোপ করে। এই শর্তগুলোতে ডেভেলপারদের নির্দিষ্ট বিক্রয় সীমা, ডেটা শেয়ারিং নীতি এবং পেমেন্ট রুটের উপর সীমাবদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এপ্রিল ২০২৫-এ ইউরোপীয় কমিশন অ্যাপলকে DMA-র ‘স্টিয়ারিং’ বিধি লঙ্ঘনের জন্য ‘অঅনুগত’ বলে চিহ্নিত করে এবং $৫০০ মিলিয়ন জরিমানা আরোপ করে। কমিশন উল্লেখ করে, অ্যাপল ব্যবহারকারীদের বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতির দিকে ধাবিত করতে বাধা দিয়েছে, যা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ।
গত বছর জুনে অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোরের জন্য নতুন মূল্য মডেল প্রস্তাব করে, যেখানে ৫% রাজস্ব ভাগের ‘কোর টেকনোলজি কমিশন’ (CTC) নামক ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই মডেলটি পূর্বের ফি কাঠামোকে বদলে ব্যবহারকারীর পছন্দের স্বায়ত্তশাসন বাড়াতে লক্ষ্য রাখে।
তবে ইউরোপীয় কমিশন এই পরিবর্তনগুলোকে অনুমোদন না করে, ফলে ম্যাকপাও নামের ডেভেলপার তার ছোট সেটঅ্যাপ স্টোর বন্ধ করে দেয়। ম্যাকপাও উল্লেখ করে, অ্যাপলের শর্তগুলো তাদের ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
অ্যাপল একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করে, কমিশন তাদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। অক্টোবর মাসে একটি আনুষ্ঠানিক সম্মতি পরিকল্পনা জমা দেওয়া সত্ত্বেও, এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অ্যাপল দাবি করে, কমিশন রাজনৈতিক দেরি কৌশল ব্যবহার করে জনমতকে বিভ্রান্ত করছে, লক্ষ্য পরিবর্তন করছে এবং আমেরিকান কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত তদন্ত ও জরিমানা আরোপের মাধ্যমে অন্যায় করছে।
ইউরোপীয় কমিশন এ বিষয়ে এঙ্গাজেটকে জানায়, তারা অ্যাপলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং DMA-র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল গেটকিপারদের ন্যায্যভাবে কাজ করা নিশ্চিত করা, যাতে বাজারে প্রতিযোগিতা এবং ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষা পায়।
এই বিবাদ ইউরোপীয় ডিজিটাল বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি অ্যাপলকে DMA-র শর্ত মেনে চলতে না হয়, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপরও অনুরূপ নিয়ম আরোপের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, অ্যাপলের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের বাধা বাড়তে পারে, যা ব্যবহারকারীর পছন্দের বৈচিত্র্য এবং ডেভেলপারদের আয়কে প্রভাবিত করবে।
অ্যাপল এবং ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোরের কার্যক্রম, ফি কাঠামো এবং ব্যবহারকারীর পেমেন্ট পদ্ধতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উভয় পক্ষই দাবি করে যে তারা আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলছে, তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সময়সীমা নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি শিল্পের নিয়ন্ত্রক পরিবেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যেখানে গেটকিপারদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি এবং ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষার জন্য আরও সুস্পষ্ট নীতি প্রয়োজন হবে।



