28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধতালিবান ২২‑বছরী নারী ক্রীড়া প্রশিক্ষককে ১৩ দিন জেলে রাখার পর মুক্তি দিল

তালিবান ২২‑বছরী নারী ক্রীড়া প্রশিক্ষককে ১৩ দিন জেলে রাখার পর মুক্তি দিল

আফগানিস্তানের হেরাতের কাছাকাছি বসবাসরত ২২‑বছরী খাদিজা আহমদজাদা, যিনি মেয়েদের জন্য তায়কোয়ান্ডো জিম পরিচালনা করতেন, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রেফতার হন এবং ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার মুক্তি পান। তার গ্রেফতার ও মুক্তির তথ্য তালিবানের সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্রের ঘোষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।

তালিবান শাসনের পর ২০২১ সালে নারী ক্রীড়া ক্লাবগুলো বন্ধ করা হয়। সরকারী ঘোষণায় বলা হয়েছিল, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে এবং ইসলামী শারীরিক নীতিমালা লঙ্ঘন না করলে ক্লাবগুলো পুনরায় খোলা হবে। তবে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কোনো নারী ক্রীড়া ক্লাব পুনরায় খোলা যায়নি, এবং নারীরা কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে না।

আহমদজাদাকে “মহিলাদের ক্রীড়া জিমের নিয়ম লঙ্ঘন” করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তালিবানের নৈতিকতা ও নৈতিকতা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, গৃহপরিদর্শকরা তার জিমে অনুপযুক্ত হিজাব পরিধান, সঙ্গীত বাজানো এবং পুরুষ-নারীর মিশ্রণ পর্যবেক্ষণ করেন। এই লঙ্ঘনের জন্য তাকে একাধিক সতর্কতা দেওয়া হয় এবং ১৩ দিনের কারাদণ্ড আরোপিত হয়।

গ্রেফতারকালে আহমদজাদা এবং অন্য কয়েকজনকে একসাথে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মামলা সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়, যেখানে কোর্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তিনি বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পাবেন। মুক্তির পর তার বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আহমদজাদার গ্রেফতার সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট, যিনি আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, অনলাইন পোস্টে তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। তিনি একই সঙ্গে কুন্দুজের উত্তরাঞ্চলে দেরি ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার হওয়া নারী সাংবাদিক নাজিরা রাশিদির কেসের কথাও উল্লেখ করেন। তালিবান সরকারী সূত্র অনুসারে, রাশিদির গ্রেফতার তার সাংবাদিক কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তালিবানের শাসনকালে নারীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং পোশাক সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত। এই বিধিনিষেধগুলো নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণকে সীমিত করে চলেছে। আহমদজাদার মামলাটি এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নারীর স্বাধীনতা ও ক্রীড়া অধিকারকে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মতে, আহমদজাদার মামলাটি এখনো সম্পূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরবর্তী পর্যায়ে কোনো আপিল বা অতিরিক্ত তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বর্তমান পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তালিবান সরকারকে নারী ক্রীড়া ক্লাব পুনরায় খোলার এবং নারীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও কঠোর ইসলামী ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নীতি বজায় রাখার দিকে ঝুঁকেছে।

আহমদজাদার মুক্তি যদিও স্বল্প সময়ের জন্য হলেও, তার ভবিষ্যৎ ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পুনরায় শুরু হওয়া এখনও অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণ এই বিষয়ের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments