লাক্সমীপুর‑১ (রামগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহবুব আলমের বাবা আজিজুর রহমান, বিএনপির স্থানীয় সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে ভোটের আবেদন করেছেন। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তিনি কমপক্ষে অঠারোটি পথসভায় অংশ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা উন্মোচিত করেছে।
মাহবুব আলম, যিনি সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই, এনসিপির শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে রামগঞ্জ আসনে দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার পারিবারিক পটভূমি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, কারণ তার বাবা আজিজুর রহমান ইছাপুর ইউনিয়নের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন।
আজিজুর রহমানের ভোট আহ্বানটি ইছাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকার মোল্লা বাড়িতে, যেখানে মাহবুব আলমের পরিবার বসবাস করে, সেখান থেকে শুরু হয়। তিনি রামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে, ধানের শীষ প্রতীককে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন। এই প্রচার কার্যক্রমে তিনি নিজে মাঠে নেমে, ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে, এবং নিজের রাজনৈতিক সংযুক্তি তুলে ধরেছেন।
বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে ভোট চাওয়ার বিষয়টি আজিজুর রহমান স্বীকার করে বলেন, “পরিবার আমার ব্যক্তিগত বিষয়, আর রাজনীতি আমার আদর্শ ও অবস্থানের জায়গা। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে ভোট চাইছি। ছেলের জন্য বাবা হিসেবে দোয়া করি।” তিনি উল্লেখ করেন যে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং তিনি তার সন্তানকে সমর্থন করার জন্য প্রার্থনা করছেন।
মাহবুব আলমের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে আমার বাবাকেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি পারিবারিক বিষয়কে রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে রাখতে চান।
এই ঘটনাটি রামগঞ্জের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে, বাবা ও পুত্রের ভিন্ন রাজনৈতিক সংযুক্তি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, অন্যদিকে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনী জোটের গতিবিধি এই ধরনের পারিবারিক বিরোধের মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভোটের আহ্বান করা হলে, প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যা নির্বাচনের ফলাফলে অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন আনতে পারে।
এছাড়া, স্থানীয় স্তরে আজিজুর রহমানের ভোট আহ্বানটি ইছাপুর ইউনিয়নের ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের পারিবারিক বিরোধ অব্যাহত থাকে, তবে উভয় পার্টির জন্য কৌশলগত পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকে এবং নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করা না যায়।
সারসংক্ষেপে, রামগঞ্জের এই রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পারিবারিক ও পার্টি সংযুক্তি একসাথে টানাপোড়েনের মুখে। ভোটারদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকলে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। উভয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা এখনই এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে, ভোটারদের কাছে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, যাতে নির্বাচনের ফলাফল সত্যিকারের জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে।



