ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন শুক্রবার নেটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সঙ্গে আর্কটিকের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজন নিয়ে একমত হয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল সংক্রান্ত সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব অটুট রাখার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করা হয়, তবে অন্যান্য নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয়গুলোতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার নেটো মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ডে “স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার” দাবি করেন। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং রাশিয়া ও চীনকে আর্কটিকের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ থেকে বিরত রাখার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। একই সময়ে নেটো প্রধানও উত্তরের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মিত্র দেশগুলোর সমন্বিত প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন। দুই পক্ষের আলোচনার মূল বিষয় ছিল গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারণ। বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা নেটো ও ডেনমার্কের আর্কটিক নীতি সমন্বয়কে লক্ষ্য করে।
ফ্রেডেরিকসেনের গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকুতে সফরও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। তিনি সেখানে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে মতবিনিময় করবেন। সফরের সময় উভয় পক্ষই আর্কটিকের সামুদ্রিক পথ, সম্পদ অনুসন্ধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যদিও তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করে কূটনৈতিক উপায়ে বিষয়টি সমাধান করতে চান, তবু তার মন্তব্যে আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম “ট্রুথ সোশ্যাল”-এ তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো গ্রিনল্যান্ড এবং পুরো আর্কটিক অঞ্চলের জন্য ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা তৈরি করেছে। এই বিবৃতি আর্কটিকের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন সমন্বয় ও চুক্তির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্বের অটুটতা নেটোকে আর্কটিকের নিরাপত্তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নেটো মহাসচিব রুত্তের সঙ্গে ডেনিশ নেতার সমন্বয় কাজের ফলে আর্কটিকের সামরিক উপস্থিতি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রহকে মোকাবেলায় নেটোর সমন্বিত কৌশল প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে।
ডেনমার্কের সরকার গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করে, তবে আর্কটিকের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে। পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে নুকুতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা, আর্কটিকের সামুদ্রিক সীমানা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ারিং প্রোটোকল স্থাপন এবং নেটোর আর্কটিক কমান্ড সেন্টারকে শক্তিশালী করা অন্তর্ভুক্ত।
এই পদক্ষেপগুলো আর্কটিকের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার এবং নেটোর সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেনমার্কের দৃঢ় অবস্থান এবং নেটোর সমন্বিত কৌশল আর্কটিকের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বিত লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।
সারসংক্ষেপে, ডেনমার্ক ও নেটোর আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করার যৌথ উদ্যোগ, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি এবং রাশিয়া-চীন থেকে উদ্ভূত হুমকির প্রেক্ষাপটে গঠিত, যা ভবিষ্যতে আর্কটিকের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



