19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিফরহাদ মজহার যুক্তরাষ্ট্র‑জামায়াতের সম্পর্ককে অশনিসংকেত বলে সতর্ক

ফরহাদ মজহার যুক্তরাষ্ট্র‑জামায়াতের সম্পর্ককে অশনিসংকেত বলে সতর্ক

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে শুক্রবার দুপুরে “দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: সমাজের করণীয়” শীর্ষক আলোচনায় কবি-চিন্তক ফরহাদ মজহার যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াত‑ই‑ইসলামের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে “ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত” বলে সমালোচনা করেন। তিনি এই মন্তব্য করেন যখন একজন সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক “ওয়াশিংটন পোস্ট”ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন যে, জামায়াত‑ই‑ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “বন্ধুত্ব” চায় এবং শারিয়া আইন প্রয়োগে বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের হুমকি দেবে।

মজহার বলেন, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত, কেউ সরাসরি, কেউ পরোক্ষভাবে। তিনি বিশেষ করে ৫ আগস্টের গণ‑অভ্যুত্থানের পরের সংবিধানিক পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একটি “রেজিম চেঞ্জ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই দৃষ্টিকোণটি তিনি উল্লেখ করেন যে, সাংবাদিকরা যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শীঘ্রই শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন নয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রই শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তার মতে, দেশের কাজ হল নতুন বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে ১৭ কোটি মানুষের মৌলিক চাহিদা—খাবার, পানি, বিদ্যুৎ—নিশ্চিত করা হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “একটি ভূ-রাজনৈতিক শক্তি” হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাস্তব শক্তি নয় এবং ট্রাম্পের শাসনকালে দেখা গিয়েছিল এমন রূঢ় বাস্তবতা এই সম্পর্কের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

মজহার তার বক্তব্যে জোর দেন, তিনি কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না; তার একমাত্র লক্ষ্য হল ১৭ কোটি মানুষের জন্য ডাল‑ভাত নিশ্চিত করা। তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন অনেকেই ভারতবিরোধী মতামত প্রকাশ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে আলোচনা করে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে স্বীকার করে বলেন, “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কথা কেন বলা হয় না?” এবং এ বিষয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।

আলোচনার সময় তিনি জামায়াত‑ই‑ইসলামের গাজা সংক্রান্ত অবস্থানও উল্লেখ করেন। জামায়াত গাজা অঞ্চলে “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স” (ISF) পাঠানোর বিষয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছে, যা তিনি স্বীকার করেন যে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সম্পর্ক রয়েছে। তবে তিনি এই সম্পর্ককে “অশনিসংকেত” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি স্বরূপ।

ফরহাদ মজহার এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের ব্যাপারে সতর্কতা জাগাতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকট—গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি—সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন। তার মতে, দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে বিদেশি শক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের অস্বচ্ছ বা অপ্রয়োজনীয় বন্ধুত্ব এড়িয়ে চলা উচিত।

মজহার শেষ পর্যন্ত বলেন, দেশের প্রধান কাজ হল জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে মনোনিবেশ করা, এবং কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা যা দেশের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তা থেকে বিরত থাকা। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক, জামায়াতের নীতি ও দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments