ইন্ডিয়া চাবাহার বন্দর উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১২ কোটি ডলার সম্পূর্ণ অর্থপ্রদান করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে সম্পন্ন হয়েছে। এই তথ্য ইকোনমিক টাইমস ইনফ্রা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাস সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের প্রস্তুতি নেয়ার মুহূর্তে, দিল্লি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চাবাহার প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত তহবিল স্থানান্তর সম্পন্ন করে। এই সময়সীমা প্রকল্পের আর্থিক দায়িত্ব পূরণে ইন্ডিয়ার ত্বরিততা নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে ইন্ডিয়ার দায়বদ্ধতা নিষ্পত্তির কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। তারা বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগে সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করা ইন্ডিয়ার প্রকল্পে অংশগ্রহণের শেষের ইঙ্গিত হতে পারে।
ইটি ইনফ্রার সম্পাদক পি. মনোজের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মুহূর্তে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্তটি প্রকল্পে ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। তিনি এটিকে ইন্ডিয়ার অংশগ্রহণের সমাপ্তির সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছেন।
অর্থপ্রদান সত্ত্বেও, চাবাহার বন্দর পরিচালনায় ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডের সরকারী নিযুক্ত পরিচালকরা পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে, সংস্থার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তি থেকে কর্মকর্তাদের রক্ষা করা যায়।
কয়েকটি সূত্রের মতে, ইন্ডিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগকে তাদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে শেষ করার ইচ্ছা জানিয়েছে। এই পদক্ষেপটি বন্দর পরিচালনায় ইন্ডিয়ার সরাসরি অংশগ্রহণ কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সাবেক কূটনীতিক অনিল ওয়াধওয়া এই পরিবর্তনকে কৌশলগত পিছু হটা বা সাময়িক সমন্বয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যাতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্ডিয়া সাধারণত একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার জন্য কখনো কখনো তা মেনে চলে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মন্ত্রণালয় এই বিষয়কে কূটনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
চাবাহার বন্দর ইন্ডিয়ার জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে; এটি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের একটি মূল অংশ। এই কারণে বন্দরটি ভারতের বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।
তবে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির কঠোরতা প্রকল্পের অগ্রগতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই পরিবর্তনগুলো ইন্ডিয়ার চাবাহার পরিকল্পনাকে আর্থিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
অবশেষে, চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ইন্ডিয়ার অগ্রগতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দরকষাকষির ফলাফলের উপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে কীভাবে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনাগুলি গড়ে উঠবে, তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও ইন্ডিয়ার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



