27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিপিএল ফাইনাল শুরু, নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ

বিপিএল ফাইনাল শুরু, নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ

বিপিএল ফাইনালের সূচনা মাত্র তিন ঘণ্টা দূরে, তবে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের গেট এখনও বন্ধ। মিরপুরের এক নম্বর গেটের বাইরে বিশাল ভিড় জমে আছে, দর্শকরা লাইন গঠন করে প্রবেশের অপেক্ষা করছে। স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ এখনও প্রস্তুত না হলেও, বাইরের উল্লাসে উৎসবের ছোঁয়া স্পষ্ট।

গেটের সামনে জমা ভিড়ের মধ্যে উল্লাসের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগের সুরও শোনা যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল না যাওয়ার খবর শোনার পর, ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ শোক প্রকাশ করেছে, আবার কেউ সরকারের ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে।

কিছু ভক্তের মতে, বিশ্বকাপে দেশের অংশগ্রহণ না হলে দেশের প্রতি গর্বের অনুভূতি কমে যাবে। অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন বলছেন যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকার ও বিসিবি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যথার্থ। কিছু মানুষ ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিসিবি ও সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে অংশ নেবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক দিন সময়সীমা নির্ধারণের পর, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের পরে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার মিডিয়ার সামনে দেশের অনড় অবস্থান পুনরায় জোর দিয়ে বলেছিলেন।

এই ধারাবাহিক প্রকাশনা শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না। আইসিসি ও বিসিবির দু’পক্ষের মধ্যে দুইটি রাউন্ডের আলোচনা হয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি; উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রেখেছে। বিসিবি নিরাপত্তা ঝুঁকিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে, আর আইসিসি কোনো নির্দিষ্ট হুমকি না থাকায় দলকে ভারতে পাঠানোর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকার করেছে।

একজন ভক্ত, নাঈমুল ইসলাম, এই পরিস্থিতি নিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, বিশ্বকাপে দেশের অংশ না থাকলে তার মানসিক অবস্থা প্রভাবিত হবে, এবং নিজের দেশের জন্য খেলতে না পারার অনুভূতি অন্যরকম। তিনি বিসিবির সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক বিষয় এবং যদিও সরাসরি ম্যাচ দেখতে না পারলেও স্কোর ও হাইলাইট দেখার আশা রাখছেন।

এই বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছিল যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দিতে। বাংলাদেশের দ্রুতগতির পেসারকে বাদ দেওয়ার পরপরই বিসিবি আইসিসিকে জানায় যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে অংশ নেবে না এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে।

আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে দুইটি পর্যায়ের বৈঠকে কোনো সমাধান বের হয়নি। বিসিবি ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, আর আইসিসি প্রতিবারই উল্লেখ করেছে যে কোনো দলের প্রতি নির্দিষ্ট হুমকি নেই। ফলে দুই সংস্থার অবস্থান পারস্পরিকভাবে অটল রয়ে গেছে।

বিপিএল ফাইনাল এখনো নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, এবং ভক্তরা দেশীয় লিগের উত্তেজনা উপভোগ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অন্য দেশে অনুষ্ঠিত হবে, আর বাংলাদেশি ভক্তদের জন্য এই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সরাসরি অভিজ্ঞতা সীমিত থাকবে।

বিসিবি ও সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতির প্রতি দায়িত্ববোধও রয়েছে। যদিও কিছু ভক্তের জন্য এটি হতাশার কারণ, তবে দেশের নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপকে বিসিবি ও সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে।

অবশেষে, বিপিএল ফাইনালের উত্তেজনা এবং বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা দুটোই দেশের ক্রীড়া পরিবেশে একসাথে চলতে থাকবে। ভক্তদের আশা, দেশীয় লিগের মাধ্যমে ক্রিকেটের উচ্ছ্বাস বজায় রাখবে, আর আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটের অংশগ্রহণ স্থগিত থাকবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments