করাচি শহরের গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে শনিবার সন্ধ্যায় ধ্বংসাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার ফলে ৬৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং পরিবারের কাছ থেকে ৭৭ জনের নিখোঁজের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। আগুনটি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, ফলে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুল প্লাজা প্রায় ৬,৫০০ বর্গমিটার (৭০,০০০ বর্গফুট) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহৎ কমপ্লেক্স, যেখানে একাধিক তলায় মোট প্রায় ১,২০০টি দোকান অবস্থিত। শহরের বিবাহের মৌসুমে শপিং সেন্টারটি বিশেষভাবে ব্যস্ত ছিল, যা শিকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে।
দাহের পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ ডেপুটি কমিশনার জানান যে মৃতদেহের মধ্যে কিছু কেবল আংশিক অবশিষ্টাংশ, তবে মোট ৬৭টি খুলি গোনা হয়েছে। বর্তমানে ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, বাকি দেহের শনাক্তকরণ চলমান। মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজের তালিকাও বাড়ছে, যা পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত কষ্টের কারণ।
আগুনের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শপিং সেন্টারের ভিতরে কাজ না করা অগ্নি নির্বাপক দরজা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কথা শোনা যাচ্ছে। কিছু সাক্ষী জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় শপিং সেন্টারের বেশিরভাগ দরজা বন্ধ ছিল, ফলে মানুষ দ্রুত বের হতে পারেনি। এক দোকানদার উল্লেখ করেন, অগ্নি মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা শিকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
গুল প্লাজা শপিং সেন্টারের মোট ১৬টি প্রস্থান পথের মধ্যে মাত্র তিনটি খোলা ছিল, বাকিগুলো বন্ধ ছিল বলে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা সায়েদ আসাদ রাজার মন্তব্যে জানা যায়। শপিং সেন্টারটি শীঘ্রই বন্ধ হওয়ার প্রস্তুতিতে ছিল, ফলে গেটগুলো লক করা ছিল, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, করাচি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেহ শনাক্তকরণ, নিখোঁজের সন্ধান এবং অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ণয়ের কাজ চলছে।
পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজা শপিং সেন্টারের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা এবং দরজা বন্ধ রাখার ফলে শিকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে। তদন্তের অংশ হিসেবে, শপিং সেন্টারের নির্মাণ ও পরিচালন সংস্থার বিরুদ্ধে আইনগত দায়িত্ব আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে শপিং সেন্টারের মালিক ও কর্মচারীরা শোকাহত, এবং শহরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়িক সমিতি এই ঘটনার পর পুনরায় নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছে।
অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি এবং আদালতের আদেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্যোগ রোধে অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগ এবং জরুরি প্রস্থান পথের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।



