পঞ্চগড়ের চিনি মিল মাঠে আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী রেলিতে জামায়াত‑ই‑ইসলামির নেতা শফিকুর রহমান উত্তরবাংলার দীর্ঘদিনের অবহেলা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে উত্তরবঙ্গের দারিদ্র্য স্বাভাবিক নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি হয়েছে।
রহমানের মতে, উত্তরবাংলা দেশের খাদ্য ও পুষ্টির প্রধান সরবরাহকারী, তবু ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি নিজেকে এই অবিচারের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে, অঞ্চলটির উন্নয়নের জন্য তৎপরতা দাবি করেন।
বেকারত্বমুক্ত উত্তরবঙ্গের স্বপ্ন প্রকাশ করে তিনি, সকল যুবক-যুবতিকে জাতির নির্মাতা বানাতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি কৃষি-ভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাতে স্থানীয় শ্রমশক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ে।
শুগার মিলগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন। বন্ধ শুগার মিলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে, কৃষি উৎপাদন শৃঙ্খলাকে শক্তিশালী করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির “ফ্যামিলি কার্ড” প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করে, “আমাদের কোনো কার্ড নেই; আমাদের ভাইবোনই আমাদের কার্ড” বলে সমর্থকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
জনসাধারণের সমর্থন, প্রার্থনা ও ভালোবাসা দিয়ে বেকারত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ইচ্ছা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাবলিক তহবিলের অপব্যবহার না করে, দরিদ্রদের দান নয়, স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
যুবক ও যুবতীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে, “ইন শা আল্লাহ” বলে তিনি নারী-পুরুষের সমন্বয়ে জাতি গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরিবারিক ঐক্যের ভিত্তিতে সমাজের মৌলিক গঠনকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেন।
উন্নয়নের স্লোগান “টেকনাফ থেকে টেটুলিয়া” প্রায়ই শোনা যায়, তবে টেটুলিয়ায় উন্নয়নের ঢেউ পৌঁছায় না, এ কথা তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে “টেটুলিয়া থেকে টেকনাফ” ধারায় উন্নয়নকে সমানভাবে বিতরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উত্তরবঙ্গের নদীর অবনতি ও পরিবেশগত সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, আল্লাহ্ই এই নদীগুলোকে উপহার দিয়েছেন, সেগুলোকে রক্ষা করা দরকার বলে তিনি জোর দেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের অবকাঠামো ও শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তবে শফিকুরের দাবি অনুযায়ী এই পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচনা করা হয়। কিছু বিশ্লেষক বলেন, জামায়াতের এই রেলি নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার কৌশল হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, উত্তরবঙ্গের ভোটার ভিত্তি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে শফিকুরের বক্তব্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোকে অঞ্চলীয় বৈষম্য মোকাবিলায় নীতি পরিবর্তনের চাপ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, শফিকুর রহমানের রেলি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, বেকারত্বমুক্তি এবং শিল্প পুনর্জাগরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।



