23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাএলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে গ্যাস সরবরাহ কমে, শিল্প ও গৃহস্থালিতে চাপ বাড়ছে

এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণে গ্যাস সরবরাহ কমে, শিল্প ও গৃহস্থালিতে চাপ বাড়ছে

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঘোষণা দিয়েছে। এই সময়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাসের প্রবাহ হ্রাস পাবে, ফলে তিতাস গ্যাসের অধীনে থাকা গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহকদের গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাবে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যেখানে বর্তমান সরবরাহ মাত্র ২৫০‑২৬০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ১২০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণকালীন সময়ে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহের পরিমাণ আরও কমে যায়।

এই ঘাটতি গৃহস্থালিতে সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যার শীর্ষ সময়ে বহু পরিবার চুলা জ্বালাতে না পারার অভিযোগ জানাচ্ছে। গ্যাসের চাপ হ্রাসের ফলে স্টোভের জ্বালানি কমে যাওয়ায় রান্নার সময় বাড়ছে এবং কিছু বাড়িতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে।

একই সময়ে এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাজারেও সংকটের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। শীতকালীন চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবহন জটিলতা এবং আমদানির ওপর নির্ভরতার ফলে সিলিন্ডার সরবরাহে দেরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন এবং নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি গৃহস্থালি ও ছোট ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাসের ঘাটতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অনেক কারখানা উৎপাদন বন্ধ বা শিফট কমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ফলে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অভাবের ফলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, যা উৎপাদন ব্যয়কে বাড়িয়ে তুলছে। এই ব্যয়বৃদ্ধি বিদ্যুৎ হারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে শেষ ব্যবহারকারীকে উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হতে পারে।

তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে সামগ্রিক সরবরাহ ঘাটতি এখনও বিদ্যমান, তাই গৃহস্থালি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সম্পূর্ণ স্বস্তি পেতে সময় লাগবে। সংস্থা এই অস্থায়ী অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, গ্যাসের ঘাটতি এবং এলপিজি দামের উত্থান মুদ্রাস্ফীতি চাপকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে, শিল্পখাতে উৎপাদন হ্রাসের ফলে রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বিক্রয় উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে, যা দেশের মোট অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানো, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিতাস গ্যাসের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়সূচি ও সরবরাহ পরিকল্পনা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সারসংক্ষেপে, এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ গ্যাস সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি সৃষ্টি করেছে, যা গৃহস্থালি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়াচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, এলপিজি দামের উত্থান এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের ব্যবসা পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। গ্যাস সংস্থার দ্রুত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এবং গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ব্যবহার নির্দেশনা এই সংকটের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments