রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (IFFR) ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের জন্য নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বছরের ৫৫তম সংস্করণে ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরে নতুন ও অপ্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসন্ধানকারী চলচ্চিত্রগুলোকে প্রধান স্থান দেওয়া হয়েছে। উৎসবের আয়োজকরা বলছেন, রটারড্যাম সবসময়ই এমন নির্মাতাদের সমর্থন করে যারা সীমা অতিক্রম করে গল্প বলার চেষ্টা করে।
এই বছর বিশেষভাবে দুটি চলচ্চিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রথমটি হল কার্ল জোসেফ ই. পাপা পরিচালিত “দ্য মিসিং”। এই ডকুমেন্টারি ২০০৯ সালের মাগুইনদানো গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপাইনের একজন ফটো সাংবাদিকের নিখোঁজ হওয়া ঘটনা অনুসন্ধান করে, যাকে স্থানীয় মিডিয়ায় “বেবট” নামে পরিচিত করা হয়। তার কন্যা নেনেন বহু বছর ধরে তার মৃত্যুর দায়িত্বে থাকা শক্তিশালী পারিবারিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে লড়াই করছেন।
“দ্য মিসিং” ছবিতে অ্যানিমেশন, টেলিভিশন সংবাদ ক্লিপ এবং স্কাইপ সাক্ষাৎকারের সমন্বয় ব্যবহার করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিক রেকর্ডে না থাকা ঘটনার কল্পনা পুনর্গঠন করতে সহায়তা করে। চলচ্চিত্রের নির্মাতা দাবি করেন, এই সৃজনশীল পদ্ধতি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সময়কে একসঙ্গে চিত্রায়িত করার সুযোগ দেয়। যদিও ২০২০ সালে আদালত কিছু অংশে ন্যায়বিচার প্রদান করেছে, তবে বেবটের অনুপস্থিতি এখনও তার পরিবারকে কষ্টে রাখে, এ বিষয়টি ছবির সংক্ষিপ্তসারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য কাজ হল আলেক্স কক্সের “ডেড সোলস”। কক্স, যিনি ১৯৮৪ সালের কাল্ট ক্লাসিক “রিপো ম্যান” দিয়ে পরিচিত, এবার পরিচালক ও প্রধান চরিত্র উভয়ই পালন করছেন। এই চলচ্চিত্রটি আমেরিকান লোভের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা রাশিয়ান লেখক নিকোলাই গগলের একই নামের উপন্যাসের আধুনিক রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত। কক্সের চরিত্রের নাম স্ট্রিন্ডলার, যিনি পশ্চিমের পথে ঘুরে বেড়িয়ে মেক্সিকান শ্রমিকদের মৃত নাম সংগ্রহ করে উচ্চ পারিশ্রমিকের জন্য বিক্রি করেন।
“ডেড সোলস” ছবিতে গগলের মূল থিমকে আধুনিক সামাজিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের অবহেলা ও শোষণকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কক্সের পরিচালনা শৈলী এবং তার নিজস্ব অভিনয় একসাথে ছবির বর্ণনাকে তীব্রতা প্রদান করে, যা দর্শকদেরকে আমেরিকান স্বপ্নের অন্ধকার দিকটি পুনরায় ভাবতে বাধ্য করে। ছবির বিক্রয় অধিকার এক্সটারমিনেটিং এঞ্জেল সংস্থা পরিচালনা করে, এবং এটি IFFR-এর হ্যারবার সেকশনে প্রদর্শিত হয়েছে।
রটারড্যাম উৎসবে এই দুই চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু উদ্ভাবনী কাজ রয়েছে, যা সীমা অতিক্রমকারী গল্প বলার নতুন পথ উন্মোচন করে। দর্শকরা যদি প্রচলিত বাণিজ্যিক সিনেমার বাইরে কিছু খুঁজে থাকেন, তবে এই উৎসবের প্রোগ্রামটি তাদের জন্য সমৃদ্ধ বিকল্প সরবরাহ করে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়, ইতিহাসের অমীমাংসিত দিক এবং মানবিক সংগ্রামের গভীরতা অন্বেষণ করা সম্ভব, যা রটারড্যামকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত করেছে।
সামগ্রিকভাবে, রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৫তম সংস্করণে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো সৃজনশীলতা, সাহসিকতা এবং সামাজিক দায়িত্বের মিশ্রণ ঘটিয়ে দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে। এই ধরনের কাজগুলো শুধু বিনোদন নয়, বরং চিন্তার উদ্রেককারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং শিল্পসচেতন পাঠকদের জন্য অপরিহার্য।



