19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশফিকুর রহমানের উত্তরবঙ্গের অবহেলা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বক্তব্য

শফিকুর রহমানের উত্তরবঙ্গের অবহেলা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বক্তব্য

শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামের আমির, পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত দশ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী সভায় শুক্রবার বিকেলে উত্তরবঙ্গের অবহেলা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত তার মতামত উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় উত্তরবঙ্গের ভূমিকা অপরিহার্য, তবু ঐ অঞ্চলকে ইচ্ছাকৃতভাবে দারিদ্র্যময় রাখা হচ্ছে।

রহমানের মতে, উত্তরবঙ্গ দেশের হৃদয়ের অংশ, যা খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহের মূল উৎস। তিনি এই অঞ্চলকে ‘সৎ মা’র মতো আচরণ করা হয়েছে, তবে বাস্তবে তা বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গকে আর কোনো রাজনৈতিক শক্তি পিছিয়ে রাখবে না এবং জনগণের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা হবে।

বক্তব্যে তিনি যুবক-যুবতী ও সাধারণ নাগরিকদের দেশ গঠনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শফিকুর জানান, উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করা, বন্ধ থাকা চিনি কলগুলো পুনরায় চালু করা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনা তার অগ্রাধিকার।

তিনি রাজনৈতিক কার্ডের বদলে জনগণের হৃদয়ে ভালোবাসার কার্ড গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শফিকুরের মতে, কোনো নাগরিকের উপর দয়া নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়; ট্যাক্সের অর্থ ন্যায্যভাবে ব্যবহার করে দারিদ্র্য, অবিচার ও ঋণমুক্ত বাংলাদেশ গঠনই লক্ষ্য।

বক্তব্যের একটি অংশে তিনি টেকনাফ ও তেঁতুলিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কিত ধারণা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত উন্নয়ন প্রবাহিত হচ্ছিল, এখন তা উল্টো দিক—তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত—সামঞ্জস্য করা প্রয়োজন।

শফিকুরের উত্তরবঙ্গ সফর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে শুরু হয়। উড়ানের সময় তিনি চারটি প্রধান নদী—তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, আত্রাই ও করতোয়া—কে আল্লাহর দান হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে বর্তমান অবস্থা মরুভূমির মতো শূন্য ও শুষ্ক। তিনি নদীগুলোকে মানবদেহের রক্তনালীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যদি এই রক্তনালীগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে মানুষ মারা যাবে।

রহমানের এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। উত্তরবঙ্গের অবহেলা ও উন্নয়ন নিয়ে তিনি যে দাবি তুলেছেন, তা আসন্ন নির্বাচনের আগে অঞ্চলের ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়, বন্ধ চিনি কলের পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করা হবে।

শফিকুরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, স্থানীয় নেতারা তার দৃষ্টিভঙ্গি স্বাগত জানিয়েছেন, তবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সমর্থন ও নীতি পরিবর্তন প্রয়োজন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গের সমৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি, তাই এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো সমাধান না হলে জাতীয় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

সারসংক্ষেপে, শফিকুর রহমানের বক্তব্য উত্তরবঙ্গের অবহেলা, তার কৌশলগত গুরুত্ব এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীভূত। তিনি রাজনৈতিক কার্ডের পরিবর্তে জনগণের হৃদয়ে ভালোবাসা ও সমৃদ্ধি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments