বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতের বেলা নরসিংদী জেলার একটি জনসমাবেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের জানিয়ে দেন, দেশের নিরাপত্তা কেবলমাত্র স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী শক্তির হাতে নির্ভরশীল।
বক্তা ধর্মীয় বিভাজন, মুনাফেকি ও ধোঁকাবাজি রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্কতা দেন এবং সম্প্রতি দেশে ঘটিত একাধিক ভূমিকম্পকে আল্লাহর হুঁশিয়ারী হিসেবে উল্লেখ করে, “এই শিরকির জন্য আল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন” বলে সমালোচনা করেন। তিনি এ ধরনের মিথ্যাচার ও স্বার্থপরতার বিরোধিতা করে, “শিরকির হাত থেকে, মুনাফেকের হাত থেকে, ধোঁকাবাজের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে” বলে আহ্বান জানান।
তারেক রহমান দেশের পুনর্গঠন প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, বিদেশে বসবাসকারী বা অন্য দেশে গিয়ে থাকলেও, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সর্বদা দেশের মাটিকে নিজের ঠিকানা হিসেবে দেখেন, এই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতা, নারী, শ্রমিক ও পেশাজীবীরা একত্রে স্বাধীনতা রক্ষা করে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন, তা স্মরণ করিয়ে দেন।
বক্তা জোর দিয়ে বলেন, “ভালোকে ভালো, মন্দকে মন্দ বলতে হবে” এবং মন্দের মুখে প্রতিবাদ করা দরকার। তিনি গত পনেরো বছরে নির্বাচনের নামে জনসভা ও ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, গুম, খুন, মামলা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে, এসবের প্রভাব অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পড়েছে এবং বেকারত্বের হার বাড়ছে, তা উল্লেখ করেন।
বিএনপি’র লক্ষ্যকে তিনি “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” হিসেবে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে “ধানের শীষে ভোট” দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, যদি ধানের শীষ বিজয়ী হয়, তবে দেশ অগ্রগতি করবে।
সভায় নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন এবং নরসিংদী-৩ আসনের প্রার্থী মনজুর এলাহি সভার পরিচালনা করেন। উপস্থিতি বাড়তে থাকায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত জনসভাস্থলে জমায়েত হন।
সরকারি পক্ষ থেকে, আওয়ামী লীগ নেতারা এই ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উস্কানিমূলক মন্তব্যকে দেশের ঐক্য ও শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক দলকে সংযম বজায় রাখতে হবে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলেন, তারেক রহমানের এই ভাষণ বিএনপি’র ভোটার ভিত্তি জোরদার করার পাশাপাশি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে তিনি যে ভোটাধিকার ও স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছেন, তা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনায় পুনরায় গুরুত্ব পেতে পারে।
নরসিংদী জেলায় তারেকের আগমন ও বক্তৃতা স্থানীয় স্তরে বিএনপি’র সংগঠনের শক্তি ও সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। আগামী নির্বাচনে এই ধরনের জনসভা ও প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি’র এই জনসভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে, যেখানে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা দেখা যাবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এই ধরনের বক্তৃতা ও জনসমর্থন সংগ্রহের প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



