ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে আজ সকাল ৯টায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই সময়ে এই পবিত্র অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শহরের বাসিন্দা সবাই একত্রে দেবী সরস্বতীর কৃপা কামনা করছেন।
জগন্নাথ হলে মোট সাতোটি মণ্ডপের বেশি স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মণ্ডপে একাধিক স্তরে সাজসজ্জা করা হয়েছে। ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা নিজেদের মণ্ডপ গঠন করে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বৃহৎ আয়োজনকে ক্যাম্পাসের সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রতিটি মণ্ডপে বাণী অর্চনা, আরতি এবং পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা ধারাবাহিকভাবে গীতিকবিতা ও শ্লোক পাঠ করে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এই রীতি শিক্ষার পরিবেশে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সংযুক্ত করার একটি প্রচলিত পদ্ধতি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন পাড়া থেকে আসা পুণ্যার্থীও মণ্ডপে যোগদান করেছেন। বহুজন পরিবারসহ উপস্থিত হয়ে পূজার আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এই সমাবেশে শিক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির মেলবন্ধন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলেছে। মণ্ডপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাণী ও আরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি মণ্ডপের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।
হলটির মাঠে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগীয় মণ্ডপের দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিটি মণ্ডপে ঐতিহ্যবাহী কারুকার্য, রঙিন পটভূমি এবং ফুলের সাজসজ্জা করা হয়েছে। এই নান্দনিকতা পূজার পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করেছে।
হলের পুকুরের মাঝখানে স্থাপিত হয়েছে সবচেয়ে বড় সরস্বতী মূর্তি, যা চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে তৈরি করেছে। মূর্তির নকশা ও রঙের সমন্বয় দর্শকদের দৃষ্টিগোচর আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবার এই মূর্তি পূজার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।
একজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ জীবনের শুরু থেকেই তিনি জগন্নাথ হলে উপস্থিত থাকেন এবং এই স্থানকে তার আবেগের গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আয়োজকরা অতিথিদের প্রতি আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করেন। এই অভিজ্ঞতা তার জন্য একধরনের ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি।
বেগমবাজারের এক দর্শনার্থী প্রতি বছর স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে এখানে আসেন। তিনি মণ্ডপের সজ্জা ও পরিবেশকে প্রশংসা করেন এবং বলেন, এই অনুষ্ঠান তার পরিবারের জন্য এক বিশেষ ঐতিহ্য। তার মতামত থেকে বোঝা যায়, স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা কতটা।
জগন্নাথ ক্যাম্পাসের আলোকসজ্জা ও রঙিন সাজসজ্জা পূজার আনন্দকে বাড়িয়ে তুলেছে। কাঁঠালতলা, শান্ত চত্বর এবং সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে মণ্ডপ গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ভবন এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনেও পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সব কোণকে উৎসবমুখর করে তুলেছে।
ঢাবি ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা দেবীর আরাধনায় মগ্ন হয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষার পরিবেশে ধর্মীয় উৎসবের এই সমন্বয় শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।
সরস্বতী পূজা শিক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে একত্রিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আপনি যদি আপনার ক্যাম্পাসে এই ধরনের আয়োজনের পরিকল্পনা করেন, তবে মণ্ডপের সজ্জা, সময়সূচি এবং অংশগ্রহণকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আপনার ক্যাম্পাসে কীভাবে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানকে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবেন?



