খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ফুলতলা) আসনে ১০‑দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আরাফাত মহল্লায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনের কথা ধর্মীয় জিহাদের সমান্তরাল হিসেবে উল্লেখ করে, “ধর্মীয় জিহাদকে এখন ভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায়” বলে দাবি করেন।
সমাবেশে পরওয়ার ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক রাষ্ট্রের কাঠামোতে অস্ত্রের পরিবর্তে ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা ও আইন পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এটাই বর্তমান সময়ের সংগ্রামের পথ। তিনি অতীতের তলোয়ার, তীর-ধনুক ও কামানের যুদ্ধকে স্মরণ করে, “এখন যুদ্ধ হচ্ছে ব্যালট দিয়ে” বলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেন।
পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং জামায়াতে ইসলামের দৃষ্টিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রাষ্ট্র ও সরকার পরিবর্তনের সঠিক উপায়। তিনি দাবি করেন, সৎ প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও দমন-পীড়ন বন্ধ হবে, যদিও কিছু মহল এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ওপর পরওয়ার কঠোর নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “কোনো মুসলমান, যিনি আল্লাহ, রাসুল ও আখেরাতকে বিশ্বাস করেন, তিনি পরকালে অন্যকে কাফের বলতে পারেন না; এটি ইসলামী নীতি লঙ্ঘন” এবং এই বক্তব্যকে “বড় অপরাধ” বলে চিহ্নিত করেন।
পরওয়ার আরও বলেন, তিনি ধারণা করেছিলেন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি লন্ডনে গিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং কিছু রাজনৈতিক পরিপক্কতা অর্জন করেছেন, তবে বাস্তবে তিনি এখন বড় মুফতি হয়ে বিদেশ থেকে ফতোয়া দিচ্ছেন, যা তিনি “কেউ মুসলমান আর কে কাফের” নির্ধারণের অধিকার নেই বলে সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, রাজনৈতিক নেতারূপে শিষ্টাচার ও সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত এবং এধরনের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে পরওয়ার স্পষ্টভাবে বললেন, ভোট কেনার জন্য দেওয়া কালো টাকা গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “টাকা দিয়ে মানুষের বিবেক কেনা যায় না; ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা” এবং ভোটারকে নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানান।
সমাবেশের পর পরওয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নের আল-আকছা, শিবপুর ও বাদুড়গাছা এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন, যেখানে তিনি স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে আলাপ করে নির্বাচনী পরিকল্পনা ও ভোটার সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা চালিয়ে যান।
তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তারা পরওয়ারের সমালোচনাকে “ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উভয় পক্ষের এই তীব্র পারস্পরিক সমালোচনা আসন্ন নির্বাচনের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, পরওয়ারের ধর্মীয় রূপক ব্যবহার ও ভোটের টাকা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান তার ভিত্তিক ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, বিশেষত গ্রামীণ ও ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল এলাকায়। তবে, তার কঠোর ভাষা ও বিরোধী দলের নেতার প্রতি আক্রমণীয় মন্তব্য কিছু ভোটারকে বিরূপ করতে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে অনিশ্চয়তা যোগাবে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন উপজেলায় সমাবেশ, যেখানে উভয় দলই ভোটারকে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে প্ররোচিত করার চেষ্টা করবে, ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গতি-প্রকৃতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।



