27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপারসিয়ান বিড়াল দত্তক প্রতারণা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা দায়ের

পারসিয়ান বিড়াল দত্তক প্রতারণা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা দায়ের

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮ জানুয়ারি পারসিয়ান বিড়াল দত্তক সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী নিয়াজ মাহমুদ, খিলক্ষেতের বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র, ফেসবুকে বিনামূল্যে দত্তক নেওয়া পারসিয়ান বিড়াল নিয়ে প্রকাশিত পোস্টের ভিত্তিতে প্রতারিত হন।

প্রতিবাদী হিসেবে আরহাম হোসাইন মনির এবং অজানা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে বিড়াল বিক্রি করা নিষিদ্ধ, তাই শুধুমাত্র অভিজ্ঞ পরিবারকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে। পোস্টে বিড়ালের লিঙ্গ মেয়ে এবং ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছিল। নিয়াজ অক্টোবরের শেষের দিকে এই পোস্টটি দেখেন এবং আরহামের ফেসবুক পেজে মন্তব্যের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু করেন।

প্রথমে নিয়াজকে দিনাজপুর থেকে বিড়াল পাঠানোর খরচ হিসেবে ৬০০ টাকা চাওয়া হয়। এরপর অতিরিক্ত তিনটি কিস্তিতে মোট ৩,৪৫০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে বিড়ালটি কখনো পৌঁছায় না। আরহাম ও তার সহকর্মীরা আর কোনো যোগাযোগের নম্বর সরবরাহ করেননি; পূর্বে ব্যবহৃত ফোন নম্বরগুলো এখন বন্ধ।

মামলায় নিয়াজের পাশাপাশি তিনজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: সাভারের তনিমা মেহেরিন, ঢাকার জুরাইনের সোহানা আক্তার এবং ময়মনসিংহের মনীষা আক্তার মনসুরা। তনিমা মেহেরিন, যিনি আইন শিখছেন, মামলায় বলেন, “অনেকেই বলে তুমি প্রতারণা ধরতে পারনি, আমরা কীভাবে করব? সত্যিই বুঝতে পারিনি।”

নিয়াজের আইনজীবী বাহা উদ্দিন আল ইমরান ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চকে মামলার তদন্ত শেষ করে ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) বর্তমানে এই ঘটনার সব দিক অনুসন্ধান করছে, যার মধ্যে আরহাম হোসাইন মনিরের পরিচয় ও ঠিকানা, এবং অজানা অভিযুক্তদের যোগাযোগের তথ্য অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবাদী আরহাম হোসাইন মনিরের পাশাপাশি অজানা কয়েকজনকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে তাদের ঠিকানা ও পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত “আর্জেন্ট” শব্দটি মূল পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা বিড়াল দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। নিয়াজের বন্ধু সিয়াম আহমেদকে বিড়ালটি আনতে বলা হয়েছিল এবং নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছিল, তবে সিয়াম সেই সময়ে উপস্থিত হতে পারেননি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এই প্রতারণা মামলায় সক্রিয়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আরহাম ও তার সহকর্মীরা বিড়ালটি কখনো পাঠায়নি এবং অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে প্রতারক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।

এই ধরনের অনলাইন দত্তক সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি জনগণকে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে বিনামূল্যে দত্তক নেওয়ার দাবি করা পোস্টে অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা করা হলে তা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা উচিত।

মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ডিবি তদন্তের ফলাফল ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে উপস্থাপন করবে এবং আদালত সেই অনুযায়ী রায় প্রদান করবে। যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে তারা প্রতারণা সংক্রান্ত আইনের অধীনে শাস্তি পেতে পারেন।

এই ঘটনা অনলাইন দত্তক প্রক্রিয়ার ঝুঁকি এবং সঠিক যাচাইয়ের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রতারণা রোধে সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে উল্লেখিত শর্তাবলী এবং অর্থপ্রদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments