28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমেহেরপুরে আইটি সেন্টার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ছাড়া আইন প্রণয়ন সম্ভব নয় বলে...

মেহেরপুরে আইটি সেন্টার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ছাড়া আইন প্রণয়ন সম্ভব নয় বলে ফয়েজ আহমদ জানান

শুক্রবার বিকেলে মেহেরপুরে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সরকারের নীতি‑নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে কোনো আইন, অর্থবিল বা নীতি‑নির্ধারণের কাজ প্রধানমন্ত্রী না চাইলে অগ্রসর করা যায় না।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন, জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় ছিলেন। সকলেই ফয়েজ আহমদের বক্তব্য শোনার পর প্রশ্ন‑উত্তর সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

ফয়েজ আহমদ বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচনের পর যিনি সংসদ নেতা হন, তিনি সরাসরি সরকারপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হন। ফলে রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থার ওপর সরকারের প্রভাব অতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়।

এই প্রভাবের ফলে সংবিধানিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যেখানে একক শাখা অন্য শাখার স্বাধীনতা সীমিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।

বিকেন্দ্রীকরণে তিনি তিনটি মূল স্তম্ভের আলাদা‑আলাদা কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন: বিচার বিভাগ, সংসদ এবং প্রশাসন। এই তিনটি স্তম্ভের স্বতন্ত্র কার্যক্রমে বাধা না দিয়ে তাদের নিজস্ব ভূমিকা পালন করতে হবে।

ফয়েজ আহমদ আরও জানান, এই ধারণা দীর্ঘমেয়াদী আলোচনা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় ঐকমত্যের ফল। তিনি বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে এখনো পর্যন্ত কোনো আইন প্রণয়নের আগে সরকারকে এই নীতি মেনে চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মনির হায়দার, যিনি ঐকমত্য বিষয়ক কাজের দায়িত্বে আছেন, ফয়েজ আহমদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে সকল শাখার সমন্বিত কাজই দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীনও উল্লেখ করেন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কেবল তখনই টেকসই হবে, যখন শাসনব্যবস্থা স্বচ্ছ ও সমন্বিত হবে। তিনি আইটি সেন্টারের ভূমিকা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন।

জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্রীয় নীতি‑নির্ধারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে, যাতে নীতি‑প্রয়োগে কোনো গ্যাপ না থাকে। তিনি যোগ করেন, বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় স্তরের স্বায়ত্তশাসন বাড়বে।

পুলিশ সুপারউইজার্ড উজ্জ্বল কুমার রায়ের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, আইন প্রয়োগে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে হলে বিচারিক ও আইনগত কাঠামোর স্বাধীনতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, শাসনব্যবস্থার এই পরিবর্তন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

ফয়েজ আহমদের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সরকার যদি এই জাতীয় ঐকমত্যকে বাস্তবায়ন করে, তবে ভবিষ্যতে সংসদে নীতি‑নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। একই সঙ্গে, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ কমে যাবে এবং সংবিধানিক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হবে।

পরবর্তী ধাপে সরকারকে আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর মতামত নেয়া, নীতি‑নির্ধারণে সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ এবং বিকেন্দ্রীকরণকে বাস্তবায়নযোগ্য রূপে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দেশের শাসনব্যবস্থা আরও গণতান্ত্রিক ও কার্যকরী হবে বলে আশা করা যায়।

সারসংক্ষেপে, মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত আইটি সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বক্তব্য সরকারী নীতি‑নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার গুরুত্ব এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments