বাংলাদেশের নারী ফুতসাল দল শুক্রবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সাফ ফিফা নারী ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপের পেনাল্টিমেট ম্যাচে পাকিস্তানকে ৯-১ পার্থক্যে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথে এক জয় দূরে পৌঁছেছে। ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুন চার গোলের মাধ্যমে দলের আক্রমণকে নেতৃত্ব দেন, ফলে দলটি পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষে উঠে। এখন দলটি রবিবার মালদ্বীপের সঙ্গে শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করলে নতুন ফরম্যাটে প্রথম শিরোপা অর্জন করবে।
ম্যাচের প্রথম ছয় মিনিটে পাকিস্তান কিছুটা প্রতিরোধ দেখিয়ে কয়েকটি সুযোগ রোধ করে, তবে সপ্তম মিনিটে সাবিনা খাতুন মৎসুশিমা সুমায়ার কাছ থেকে প্রাপ্ত স্কোয়ার পাসে গোল করে স্কোরের প্রথম গ্লাস ভাঙে। এই গোলের পর সাইদ খোদারাহমি ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি গোল করে প্রথমার্ধে স্কোরকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, আর সাবিনা একবার আরও গোল করে হাফটাইমের আগে দলকে ছয় গোলের সুবিধা দেয়।
নিলুফা ইয়েসিন নবম মিনিটে দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে স্কোরকে ২-০ করে তোলেন, যদিও এই গোলটি পাকিস্তানের দিকে নয়, বরং বাংলাদেশের মোট স্কোরে যোগ হয়। এরপর নুসরাত জাহান দু’গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান, আর ক্রিশ্ণা রানি সরকার এক গোল করে হাফটাইমের আগে স্কোরকে ৬-০ করে তোলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ক্রিশ্ণা রানি সরকার আবার এক গোল করে স্কোরকে ৭-০ করে তোলেন, তবে পাকিস্তান এক গোলের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্কোরকে ৭-১ করে। শেষ পর্যায়ে সাবিনা খাতুন আরও দুইটি গোল করে দলের মোট স্কোরকে ৯-১ করে শেষ করেন, ফলে ম্যাচটি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ আধিপত্যে শেষ হয়।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেবিলের শীর্ষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করে, আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত, যারা চারটি ম্যাচে নয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভুটান, যার চারটি ম্যাচে আট পয়েন্ট রয়েছে।
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে মালদ্বীপ, যা এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি। যদি বাংলাদেশ এই ম্যাচে জয়লাভ করে, তবে দলটি নতুন ফরম্যাটের প্রথম সাফ ফিফা নারী ফুতসাল শিরোপা নিশ্চিত করবে।
এই টুর্নামেন্টে মোট সাতটি দল অংশগ্রহণ করেছে, এবং প্রতিটি দল পাঁচটি ম্যাচ খেলে পয়েন্ট সংগ্রহের ভিত্তিতে র্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের ধারাবাহিক জয় তাদের টুর্নামেন্টের শীর্ষে নিয়ে এসেছে, এবং দলটি এখন শিরোপা নিশ্চিত করার জন্য শেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
ক্যাপ্টেন সাবিনা খাতুনের চার গোলের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা দিয়েছে, এবং তার নেতৃত্বে দলটি আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে সক্ষম হয়েছে। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়, যেমন নুসরাত জাহান এবং ক্রিশ্ণা রানি সরকার, প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্কোরে অবদান রেখেছেন।
প্রশিক্ষক দলের কৌশলগত প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতিকে প্রশংসা করেছেন, যা এই বিশাল পার্থক্যের ফলস্বরূপ দেখা গেছে। দলের সমন্বয় এবং দ্রুত পাসিং গেম প্ল্যানের ফলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দ্রুত ভেঙে পড়ে।
বাংলাদেশের ফুতসাল দল এখন দেশের ক্রীড়া জগতে নতুন গর্বের প্রতীক, এবং এই জয় তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্বীকৃতি এনে দেবে। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে জয় নিশ্চিত হলে দলটি দেশের প্রথম নারী ফুতসাল শিরোপা অর্জন করবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুতসাল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে দলটি আক্রমণাত্মক শক্তি এবং সমন্বিত কৌশল দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছে। শিরোপা নিশ্চিত করার শেষ ধাপের জন্য দলটি প্রস্তুত, এবং দেশের সমর্থকরা তাদের জন্য গর্বের সাথে অপেক্ষা করছেন।



