ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ন্যাটো সেনাবাহিনী আফগানিস্তান যুদ্ধকালে সামনের লাইন থেকে কিছুটা পেছনে অবস্থান করেছিল বলে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা মন্ত্রী স্টিফেন কিননক এবং পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য তীব্রভাবে নিন্দা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের কথা শোনা যায় ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে, যেখানে তিনি ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কিননক বিবিএস ব্রেকফাস্টে যুক্তরাজ্যের সৈন্যদের আফগানিস্তানে শরণাপন্ন হওয়া এবং ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেবাকর্মীর শহীদ হওয়ার কথা স্মরণ করে, তাদের দেশপ্রেম, সাহস এবং পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে “নিরাশাজনক” বলে উল্লেখ করে, যেকোনো ব্যক্তি যাঁরা সৈন্যদের ত্যাগকে সমালোচনা করেন তা “ভুল” বলে মন্তব্য করেন।
লেবার পার্টির এমপি এমিলি থর্নবেরি একই দিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর সেশনে ট্রাম্পের মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অপমান” বলে বর্ণনা করেন এবং শহীদ সৈন্যদের ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা হিসেবে নিন্দা করেন। লিবারেল ডেমোক্রেটের নেতা স্যার এড ডেভি তীব্রভাবে প্রশ্ন তোলেন, “কিভাবে তিনি তাদের ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন?”
কনজারভেটিভ পার্লামেন্টার বেন ওবেস-জেক্টি, যিনি নিজে আফগানিস্তানে সেবা করেছেন, তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করে, ন্যাটো ও যুক্তরাজ্যের ত্যাগকে “সস্তা” করে তুলতে চাওয়া হিসেবে সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো একসাথে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনকে সমর্থন করেছে এবং এই সমর্থনকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেখাতে চেয়েছেন, বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ন্যাটোর সাহায্য প্রয়োজন করেনি এবং তারা ন্যাটোর কাছ থেকে কোনো বিশেষ অনুরোধ করেনি। তিনি যুক্তি দেন যে ন্যাটো কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে, তবে তারা “সামনের লাইন থেকে একটু পেছনে” অবস্থান করেছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের প্রতি “দুই‑পথের” সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
ব্রিটিশ সরকার ২০০১ সালে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা কার্যকর করে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে কাজ শুরু করে। সেই সময় থেকে যুক্তরাজ্যসহ বহু মিত্র দেশ ন্যাটো নেতৃত্বাধীন মিশনে অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে সামরিক ও মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে এই দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার মূল্যায়ন পুনরায় আলোচনার দরজা খুলে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন যে ট্রাম্পের এই রেটরিক ভবিষ্যতে ন্যাটো-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে। তবে যুক্তরাজ্যের সরকার ও পার্লামেন্টারদের স্পষ্ট বিরোধের মাধ্যমে তারা ন্যাটোর ভূমিকা ও ব্রিটিশ সৈন্যদের ত্যাগকে পুনরায় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন।
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ন্যাটো ও আফগানিস্তান মিশনের পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভবিষ্যতে ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতা ও সামরিক উপস্থিতি সম্পর্কে নতুন নীতি নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা ও সমন্বয়ের নতুন পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে।



