দেওয়ানগাঁ উপজেলা নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের সহকারী প্রেসিডেন্ট অফিসার (এপিও) হিসেবে দুজন মৃত শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিঠিগুলো জামালপুর-১ (দেওয়ানগাঁ-বকশিগঞ্জ) আসনের জন্য ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সেশনে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
চিঠিগুলোতে উল্লেখিত শিক্ষকদের নাম ছিল মোঃ আবদুল করিম এবং আতাউর রহমান। করিম ছিলেন দেওয়ানগাঁয়ের চার মাগুরিহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক, আর রহমান ছিলেন একই উপজেলায় পোলাকান্দি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক।
মোঃ আবদুল করিম ২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদটি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছিল।
আতাউর রহমানের মৃত্যু প্রায় চার মাস আগে ঘটেছিল; তার মৃত্যুর তথ্যও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। তবু উভয়ের নাম এপিও তালিকায় ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত হয়।
প্রশিক্ষণ সেশনগুলো দেওয়ানগাঁ সরকারী আবদুল খালেক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত হবে এবং চিঠিগুলো উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত। নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্তদের তালিকায় মৃত শিক্ষকদের নাম যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি তৎক্ষণাৎ নজরে আসে।
চিঠির সংযুক্ত তালিকায় দুজনই সহকারী প্রেসিডেন্ট অফিসার হিসেবে উল্লেখিত ছিল, যদিও তাদের মৃত্যু আগে থেকেই জানা ছিল। এই ত্রুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চার মাগুরিহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. শাফিয়ুল আলম উল্লেখ করেন, “আবদুল করিমের নাম মাদ্রাসা থেকে পাঠানো তালিকায় ছিল না, তাই বুঝতে পারছি না কীভাবে তার নাম যুক্ত হয়েছে।” তিনি তালিকায় নাম যুক্ত হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্টতা চান।
পোলাকান্দি হাই স্কুলের কার্যনির্বাহী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেন, “আতাউর রহমানের মৃত্যু চার মাস আগে ঘটেছে, তার নাম তালিকায় কীভাবে এলো তা আমি জানি না।” তিনি এই ত্রুটির উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, “একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলে মৃত শিক্ষকদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখন তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি ত্রুটির কারণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন।
জামালপুরের উপকমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ ইউসুফ আলি যোগ করেন, “মৃত শিক্ষকদের নাম কীভাবে তালিকায় এলো তা জানার জন্য আমরা একটি তদন্ত চালু করব।” তিনি নিশ্চিত করেন যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।
এই ঘটনা নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্তদের তালিকা প্রস্তুত প্রক্রিয়ার ত্রুটি প্রকাশ করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত সতর্কতা দাবি করে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা এখন তালিকা যাচাইয়ের পদ্ধতি শক্তিশালী করে ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধের পরিকল্পনা করছেন।
অবশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং তদন্তের মাধ্যমে এই ত্রুটি সংশোধন করা হবে, যাতে ভোটারদের বিশ্বাস বজায় থাকে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য থাকে।



