অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দেশের সর্বত্র হ্যাঁ ভোটের প্রতি সমর্থনের বর্ধিত প্রবণতা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বুচাই চান পাগলের মাজার পরিদর্শন করে, মাজারের ভেতর ও মেলার মাঠ ঘুরে দেখার পর, মাজারের ভিতরে প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও অত্যাচার পুনরায় দেশের শাসনে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না, ফলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা পাবে এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষ হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের নিরাপত্তা এবং পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সুরক্ষা নিশ্চিত হতে পারে বলে বিশ্বাস করে।
বুচাই চান পাগলের মাজারকে তিনি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে জনপ্রিয় বাউল গানের মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের পরিচিত বাউল শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা ও সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
প্রেস সচিব সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ধরনের হিংসা বা আক্রমণকে কঠোরভাবে নিন্দা করা উচিত এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদেরও সমানভাবে পালনীয় কর্তব্য। তিনি আশাবাদী যে, এই নির্বাচনকে সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে কভার করতে সক্ষম হবেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবিব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফি। তাদের উপস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের সমর্থন ও সহযোগিতা নির্দেশ করে।
প্রতিপক্ষের কোনো মন্তব্য প্রকাশিত না হওয়ায়, বর্তমান মুহূর্তে হ্যাঁ ভোটের সমর্থন ও বিরোধিতা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়নি। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজনীয় বলে বিশ্লেষকরা সাধারণত উল্লেখ করেন।
শফিকুল আলমের এই মন্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে হ্যাঁ ভোটের প্রতি জনমতের উত্থান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে, যদি ভোটের ফলাফল প্রত্যাশিতভাবে আসে, তবে সরকারী নীতি ও জনসেবা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠী যদি ভোটের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তবে তা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, প্রেস সচিবের বক্তব্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে হ্যাঁ ভোটের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের উত্থানকে তুলে ধরেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিচালনার জন্য সকল অংশীদারকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।



