19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে বাধা, আইসিসি সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক

বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে বাধা, আইসিসি সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক

আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারত থেকে ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর, টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি তীব্র রাজনৈতিক বিরোধে জর্জরিত হয়েছে। দুই সপ্তাহের কম সময়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নির্ধারিত, তবে বিসিবি প্রেসে জানিয়েছে যে, যদি ম্যাচগুলো ভারতের ভেতরে না হয়, তবে দল অংশ নেবে না।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতে, বাংলাদেশের একমাত্র চাহিদা হল বিশ্বকাপ খেলা, তবে তা ভারতের মাটিতে না হলে দল অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ একটি ক্রিকেট‑প্রেমী দেশ; প্রায় দুই কোটি মানুষের এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া আইসিসি ও গ্লোবাল গেমের জন্য বড় ক্ষতি হবে।”

ইন্ডিয়া ২০৩০ সালের আহমেদাবাদে কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য একটি সিঁড়ি হিসেবে বিবেচিত। তবে টি২০ বিশ্বকাপের অস্থির প্রস্তুতি, বিশেষ করে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা, এই বৃহত্তর ক্রীড়া কৌশলের ওপর ছায়া ফেলেছে। ক্রিকেট ২০২৮ সালের লস এঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরে আসবে, এবং ২০৩২ সালে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য বোলিং পরিকল্পনা রয়েছে, তাই এই সময়ে একটি প্রধান ক্রিকেট‑প্রেমী দেশকে বাদ দেওয়া ক্রীড়া নীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইসিসি জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি দলকে ভারতের মধ্যে ম্যাচ খেলাতে বাধ্য করার জন্য কোনো “বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি” পাওয়া যায়নি। সংস্থা গ্লোবাল গেমের সমষ্টিগত স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে, যাতে উদ্বোধনী ম্যাচ (২ ফেব্রুয়ারি) আগে দল নিশ্চিত করা যায়। স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়, তবে আইসিসি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে।

বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান দৃশ্যপট ভারতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রিকেট ভক্তের ঘর, এবং গ্লোবাল আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ভারতের বি.সিসি (বর্ডার ক্রিকেট কাউন্সিল) থেকে আসে। এই অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যই আইসিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশের বাদ পড়া শুধুমাত্র একটি দলকে প্রভাবিত করবে না; এটি টুর্নামেন্টের দর্শকসংখ্যা ও টেলিভিশন রেটিং-এ বড় ধাক্কা হতে পারে। বিসিবি উল্লেখ করেছে, “প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য এই টুর্নামেন্টের অনুপস্থিতি গ্লোবাল গেমের জন্য বিশাল ক্ষতি হবে।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে, আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা দাবি বাড়ছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংস্থাগুলি ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের অবকাঠামো প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আহমেদাবাদের নতুন স্টেডিয়াম, ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ও হোটেল সুবিধা বিশ্বমানের মানদণ্ডে গড়ে তোলার কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলোকে সমর্থন করার জন্য সরকার টি২০ বিশ্বকাপের সাফল্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছে।

সারসংক্ষেপে, টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং গ্লোবাল ক্রীড়া কৌশলের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশি দলের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা, আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টের সূচি ও গুণগত মানকে প্রভাবিত করবে। এই পরিস্থিতি ভারতকে তার ক্রীড়া হোস্টিং পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে।

আসন্ন সপ্তাহগুলোতে আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থাগুলি কীভাবে এই বিরোধ সমাধান করবে, তা টি২০ বিশ্বকাপের সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments