শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, শুক্রবার সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা হয়ে জানান, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দল অলীক কল্পনা বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বদলে বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার আলোকে ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
এটি তার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা সফরের সূচনা, যেখানে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ভ্রমণের সময় তিনি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেন, ভোট কেবল অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব, এবং প্রত্যেক নাগরিককে তাদের পছন্দের দল বা ব্যক্তিকে নির্ভয়ে ভোট দিতে আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, এক ভোটই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে দেশের শাসন কীভাবে পরিচালিত হবে। তিনি ভোটের ধারণা দু’ধরনে ভাগ করে ব্যাখ্যা করেন: একটি হবে সরকার গঠনের ভোট, আর অন্যটি হবে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোট।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তিনি তাগিদ দেন, উল্লেখ করে যে ১৭ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতির বন্ধন ভেঙে সম্প্রীতির রাজনীতি গড়ে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, যারা পুরনো ৫৪ বছরের পঁচে যাওয়া রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে, এবং সম্পূর্ণ পরিবর্তন চান, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে আশা করা যায়।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, জামায়াত একা নির্বাচন করছে না; দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও, সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগকে একত্রে বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শফিকুর রহমানের ক্যাম্পেইন স্লোগান “এসো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ” পুনরায় উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন, দলটি একা নয়, সমগ্র জাতি মিলে দেশের উন্নয়ন সাধন করবে। তিনি বলেন, আজকের সফর ঢাকা বাইরে কার্যক্রমের সূচনা, যা জনগণের মনোভাব বুঝে, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সরকার গঠনের সুযোগে বাস্তব ভিত্তিক ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার পঞ্চগড়ের পাশাপাশি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে জনসভায় অংশ নেবেন। আগামীকাল শনিবারের সকালেও তিনি আরও একাধিক শহরে বক্তৃতা দেবেন।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দলগুলো, যার মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অন্তর্ভুক্ত, শফিকুর রহমানের এই ঘোষণার ওপর এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য দেননি, তবে পূর্বে তারা কোনো ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে হুমকি দেয়া কোনো জোটের বিরোধিতা করে থাকে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের জন্য গণভোটের ধারণা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, যা ভোটারদের মধ্যে অতিরিক্ত আলোচনার সৃষ্টি করবে এবং পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রাখে।
গণভোটের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে জামায়াতের ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান তাদের ভিত্তি গোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় সমর্থন জোগাতে লক্ষ্য রাখে, যা আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
শফিকুর রহমানের এই বিবৃতি জামায়াতের নির্বাচনী কৌশলকে স্পষ্ট করে, যেখানে ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন, বাস্তব ভিত্তিক নীতি এবং দ্বিগুণ ভোটের ধারণা মূল থিম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, এবং দলটি বৃহত্তর জোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে চায়।



