তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি (তিতাস) আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার অধীনে থাকা সব এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপের ঘোষণা দিয়েছে। এই স্বল্পচাপের কারণ হল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, যা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হবে। তিতাসের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে সতর্কতা জানানো হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়কাল এক দিনের বেশি না হওয়ায় তিতাসের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে স্বল্পচাপের সময় গ্যাসের প্রবাহ কমে যাবে, ফলে গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার সীমিত করতে হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসে চালিত বয়লার, হিটার এবং রান্নাঘরের গ্যাস চুলা ব্যবহারকারী গৃহগুলোর জন্য এই সময়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া স্বাভাবিক।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলে স্বল্পমেয়াদে গ্যাসের চাহিদা হ্রাস পেতে পারে, যা গ্যাস বিক্রয় ও বিতরণ সংস্থার নগদ প্রবাহে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তদুপরি, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক হিটার বা ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার বাড়তে পারে, যা বিদ্যুৎ ও তেল বাজারে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ সংস্থার লোড ম্যানেজমেন্টে অতিরিক্ত চাপ যোগ করবে এবং সম্ভাব্যভাবে বিদ্যুৎ মূল্যেও অস্থায়ী উত্থান ঘটাতে পারে।
শিল্পখাতে গ্যাসের স্বল্পচাপের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গ্যাসে চালিত কেমিক্যাল, সিমেন্ট ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাই স্বল্পচাপের সময় উৎপাদন লাইন ধীর হতে পারে অথবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হতে পারে। এই ধরনের বিঘ্ন সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়কাল সীমিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সীমিত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য স্বল্পচাপের সময় গ্যাসের প্রবাহ কমে যাওয়া মানে গরম পানির সরবরাহে দেরি, রান্নার সময় গ্যাসের জ্বালানি কমে যাওয়া এবং হিটিং সিস্টেমের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাবে। তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের এই সময়ে গ্যাসের ব্যবহার পরিকল্পনা করে, অপ্রয়োজনীয় গ্যাসের চাহিদা কমিয়ে এবং গ্যাসের চাপ বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা গ্যাসের স্বল্পচাপের সময় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে অস্থায়ী সমাধান নিতে পারেন।
বাজার বিশ্লেষকরা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে স্বল্পমেয়াদে গ্যাসের সরবরাহে সামান্য অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে টার্মিনালের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ গ্যাসের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিতাসের এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মূল উদ্দেশ্য হল টার্মিনালের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে বড় আকারের গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
অবশেষে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় গ্রাহকদের যে কোনো অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং স্বল্পচাপের সময়কাল শেষ হলে স্বাভাবিক গ্যাস চাপ পুনরায় চালু হবে বলে নিশ্চিত করেছে। গ্রাহকদের এই সময়ে গ্যাসের ব্যবহার সংযত করে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে অস্থায়ী সমস্যার সমাধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বল্পচাপের সময়কাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধার হবে, যা ব্যবসা ও গৃহস্থালি উভয়ের জন্যই স্বস্তি বয়ে আনবে।



