মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যান সারফারাজ খান রঞ্জি ট্রফি এলিটের ‘ডি’ গ্রুপে হায়দারাবাদের বিপক্ষে ২১৯ রান করে দলকে শক্তিশালী নেতৃত্ব দিলেন। তিনি ২২৭ বলের ইনিংসে ১৯টি চার এবং ৯টি ছক্কা মারেন, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি হিসেবে রেকর্ড হয়।
প্রথম দিন ম্যাচের শুরুর পর ছোট ভাই মুশির খান আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারফারাজ ব্যাটিংয়ে প্রবেশ করেন। ৮২ রানে তিনটি উইকেট হারিয়ে মুম্বাইয়ের স্কোর ঝুঁকিতে পড়ে, তবে তিনি দ্রুতই স্থিতি ফিরে পান।
সারফারাজের সঙ্গে সিদ্দেশ লাডের অংশীদারিত্ব ২৫১ রান গড়ে তোলার পর, লাড ১০৪ রানে আউট হন এবং দিন শেষ হয় সারফারাজ ১৪২ রান অক্ষত রেখে। এই মুহূর্তে তার প্রথম শ্রেণির সতেরোতম সেঞ্চুরি সম্পন্ন হয়।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবারে সারফারাজের ইনিংস আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে; ২০৬ রানে ডাবল সেঞ্চুরি অর্জন করেন এবং তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি হিসেবে গর্বিত হন। পরবর্তীতে তিনি ২২৭ রানে আউট হয়ে ইনিংস শেষ করেন।
ইনিংসের সময় হায়দারাবাদের অধিনায়ক ও ভারতের টেস্ট পেসার মোহাম্মদ সিরাজ ৩৯ বলের ওপর ৪৫ রান করেন, যা সারফারাজের স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি প্রথম শ্রেণিতে ৫,০০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন; এখন পর্যন্ত ৬১ ম্যাচে ৫,০৯০ রান, গড় ৬৫.২৫।
সারফারাজের বর্তমান মৌসুমের সব ফরম্যাটে পারফরম্যান্স চোখ ধাঁধানো। সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টে গোয়ার বিপক্ষে ১৪টি ছক্কা সহ ৭৫ বলের মধ্যে ১৫৭ রান করেন, যা তার দ্রুতগতির ব্যাটিং শৈলীর প্রমাণ।
সেই টুর্নামেন্টে তিনি পাঁচটি ইনিংসে ৩০৩ রান সংগ্রহ করেন, গড় ৭৫.৭৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১৯০.৫৬, যা দেশের কোনো লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ব্যাটসম্যানের রেকর্ডের সমান। পাঞ্জাবের বিপক্ষে তিনি মাত্র ১৫ বলে ৫০ রান করেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতক পূরণ হিসেবে স্বীকৃত।
এর আগে তিনি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট (সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি) তেও সমান ধারায় পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। সাতটি ইনিংসে এক সেঞ্চুরি এবং তিনটি ফিফটি নিয়ে ৩২৯ রান সংগ্রহ করে গড় ৬৫.৮০ এবং স্ট্রাইক রেট ২০৩.০৮ অর্জন করেন।
এত বড় পারফরম্যান্সের পরও আইপিএল নিলামে তার প্রতি তীব্র আগ্রহ দেখা যায়নি; তবে চেন্নাই সুপার কিংস তাকে ৭.৫ কোটি টাকার চুক্তিতে দলে অন্তর্ভুক্ত করে।
সারফারাজের বয়স এখন ২৮ বছর, এবং তিনি ভারতের হয়ে ছয়টি টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ফিফটি করার পর চতুর্থ টেস্টে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যদিও বিস্তারিত স্কোর এখানে উল্লেখ নেই।
মুম্বাইয়ের এই ডাবল সেঞ্চুরি রঞ্জি ট্রফিতে দলকে বড় সুবিধা দেয় এবং সারফারাজের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক শৈলী ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দেয়।
পরবর্তী রঞ্জি ট্রফি ম্যাচে মুম্বাই হায়দারাবাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে সারফারাজের ফর্ম বজায় রাখলে দলকে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে নিতে পারে।



