স্যান্ড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রামাটিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘কারোসেল’ চলচ্চিত্রটি র্যাচেল ল্যাম্বার্টের পরিচালনায় নির্মিত। ছবিতে ক্রিস পাইনের পাশাপাশি জেনি স্লেট, এবি রাইডার ফোর্টসন, স্যাম ওয়াটারস্টন, কেটি সাগাল, হেলেন ইয়র্ক, দাগমারা ডোমিন্সিকজ, জেসিকা হার্পার, জেফ্রি ডেমান এবং টিয়েন ট্রান অভিনয় করেছেন। মোট সময়কাল এক ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট, যা প্রথমবারের মতো স্যান্ড্যান্সের বড় স্ক্রিনে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
‘কারোসেল’ একটি অন্তর্মুখী সম্পর্ক নাটক, যেখানে প্রেম, একাকিত্ব এবং ভয়ের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে নোয়া (ক্রিস পাইনের চরিত্র), যিনি ক্লিভল্যান্ডের একটি ছোট পারিবারিক ক্লিনিকের ডাক্তার, এবং তার কিশোরী কন্যা মায়া (এবি রাইডার ফোর্টসন)। তাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ঘটনার মাধ্যমে মানবিক সম্পর্কের উত্থান-পতনকে মূর্ত করা হয়েছে।
র্যাচেল ল্যাম্বার্টের প্রথম চলচ্চিত্রের পর থেকে তিনি স্বতন্ত্র শৈলীর জন্য পরিচিত, তবে ‘কারোসেল’এ তার কিছু দিক এখনও পরিপূর্ণতা থেকে দূরে। ছবির শুরুতে কিছুটা অনিশ্চিত গতি এবং অতিরিক্ত সঙ্গীতের ব্যবহার দর্শকের মনোযোগকে বিচ্যুত করে, যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সমন্বিত হয়। ল্যাম্বার্টের লক্ষ্য ছিল চরিত্রগুলোর গভীরতা প্রকাশ করা, তবে তার নিজস্ব শৈলীর অতিরিক্ত জটিলতা কখনো কখনো তা বাধা দেয়।
সঙ্গীত রচয়িতা ড্যাবনি মরিসের স্কোর ছবির বেশিরভাগ অংশে শোনা যায়। প্রারম্ভিক দৃশ্যে ঘূর্ণায়মান সুরের মাধ্যমে জীবনের ‘কারোসেল’ রূপকটি উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে এই পুনরাবৃত্তি সুরটি কখনো কখনো অতিরিক্ত শোনায় এবং গল্পের স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধা দেয়। সুরের এই অতিরিক্ত ব্যবহারকে সমালোচকরা ছবির মূল বার্তা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয় বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রারম্ভিক দৃশ্যে নোয়া তার কন্যা মায়াকে স্কুলে পৌঁছে দেন, যেখানে মায়া গুরুত্বপূর্ণ নথি বাড়িতে ভুলে যাওয়ার কারণে তীব্র প্যানিক আক্রমণ অনুভব করে। এই মুহূর্তটি ছবির থিমের সূচনা হিসেবে কাজ করে, যেখানে দৈনন্দিন ছোটখাটো ভুলগুলোও মানসিক চাপের বড় কারণ হতে পারে। নোয়ার পিতৃত্বের দায়িত্ব এবং মায়ার অস্থিরতা একসঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
ক্রিস পাইনের অভিনয়কে সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন; তিনি নোয়ার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করেছেন। জেনি স্লেটের চরিত্রও একইভাবে জটিলতা ও সংবেদনশীলতা বহন করে, যা দুই অভিনেতার পারস্পরিক ক্রিয়ায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাদের পারফরম্যান্স ছবির মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত, যদিও গল্পের গতি কখনো কখনো ধীর মনে হতে পারে।
সহায়ক অভিনেতা দলও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। স্যাম ওয়াটারস্টন, কেটি সাগাল এবং টিয়েন ট্রান তাদের নিজস্ব চরিত্রে গভীরতা যোগ করেছেন, যা প্রধান কাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জেসিকা হার্পার ও জেফ্রি ডেমানের উপস্থিতি ছবির বর্ণনায় অতিরিক্ত স্তর যোগ করে, যদিও তাদের স্ক্রিন সময় সীমিত।
‘কারোসেল’ সামগ্রিকভাবে ধীর গতি বজায় রাখলেও, শেষের দিকে তার থিমগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং দর্শকের উপর প্রভাব ফেলে। প্রথমে কিছুটা অনিশ্চিত শুরুর পর, চলচ্চিত্রটি ধীরে ধীরে তার নিজস্ব ছন্দে পৌঁছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে, ‘কারোসেল’ একটি সূক্ষ্ম সম্পর্ক নাটক, যেখানে প্রধান অভিনেতাদের পারফরম্যান্স এবং মানবিক থিমগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। যদিও পরিচালকের অতিরিক্ত সঙ্গীত ব্যবহার এবং শুরুর অনিশ্চয়তা কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে, তবে শেষ পর্যন্ত ছবিটি দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যায়। এই চলচ্চিত্রটি স্যান্ড্যান্সে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্কের জটিলতা অন্বেষণ করতে ইচ্ছুক দর্শকদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে।



