রংপুরে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শিল্প ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জুলাই ১৯৭১ সালের অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল অর্পণ করেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তার মতামত প্রকাশ করেন।
স্মৃতিস্তম্ভের সামনে উপস্থিত সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে তিনি বললেন, জুলাই ১৯৭১‑এর গণ-অভ্যুত্থান দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং সেই সংগ্রামের শহীদদের আত্মত্যাগকে সর্বদা স্মরণ করা উচিত।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থানের পর দেশকে মুক্ত করা এবং বর্তমান সরকারকে গঠন করা মূলত সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ফল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই‑সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকার এখনই পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, রংপুরের প্রশাসনের সঙ্গে গণভোট সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ফ্যাসিবাদী সহযোগী গোষ্ঠীর বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরোধিতা করতে পারে।
অন্যদিকে, তিনি স্বীকার করেন যে কিছু গোষ্ঠী, যারা ফ্যাসিবাদের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত, গণভোটের ফলাফলে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রাখে এবং তাদের মতামতকে সম্মান করা দরকার, যদিও সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে।
উপদেষ্টা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদী যে গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সমাবেশে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ক্রিস্টোফার হিমেল রিশিলসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে; তিনি জুলাই‑সনদের বাস্তবায়ন ও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে, সরকারকে সকল স্তরে সমন্বয় বজায় রেখে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটের ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে, এটাই উপদেষ্টার শেষ কথা।



