ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম বিভাগের স্যারস্বরী পূজা আজ জগন্নাথ হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজার মূল থিম হিসেবে মিডিয়া ঘরোয়া সহিংসতা ও দহযন্ত্রের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সকালেই অঞ্জলি অর্পণ করে সূচনা করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সৃষ্টিশীলতা ও শিক্ষার সমৃদ্ধি কামনা করে।
পূজার মঞ্চের পেছনের ব্যাকড্রপটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বর মাসে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের দহযন্ত্রের চিত্র দেখা যায়। এই ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাটি মিডিয়া সংস্থার ওপর আক্রমণের তীব্রতা ও সমাজের উদ্বেগকে প্রকাশ করে।
বিভাগের একজন ছাত্র, অ্যানুস্কা চক্রবর্তী, উল্লেখ করেন যে স্যারস্বরী পূজা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার ও সৃজনশীলতার প্রতীক। তিনি বলেন, “প্রতিটি বছর আমরা এমন একটি থিম বাছাই করি যা আমাদের সমাজের বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “মোব ভায়োলেন্স স্বাধীনতা প্রকাশের গুরুতর লঙ্ঘন। সাংবাদিকতা জনসাধারণের জন্য সত্যের প্রকাশ, তাই মিডিয়া ঘরোয়া আক্রমণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।”
প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে যে, জগন্নাথ হলের তত্ত্বাবধানে মোট ৭৬টি পূজা মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। মণ্ডপগুলো বিভিন্ন বিভাগ ও ছাত্র সংগঠন দ্বারা পরিচালিত, যা একত্রে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক সমাবেশের রূপ নেয়।
হলের সাধারণ সম্পাদক শুদিপ্তো প্রমাণিক নিশ্চিত করেন যে, ৭৪টি বিভাগ নিজ নিজ স্টল সাজিয়েছে এবং হল কর্তৃক দুইটি দেবী মূর্তি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিবছরের মতোই এই বছরও আমরা এখানে সবচেয়ে বড় পূজা আয়োজন করছি।” এই বিবরণটি পূজার আয়োজনে জগন্নাথ হলের সমন্বয় ও সমর্থনকে তুলে ধরে।
সার্বিকভাবে, এই পূজা কেবল শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক উদযাপন নয়, বরং মিডিয়া স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। শিক্ষার্থীরা থিমের মাধ্যমে বর্তমান সময়ের সমস্যাগুলোকে শিল্পের ছোঁয়ায় প্রকাশ করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে আলোচনার সঞ্চার ঘটায়।
পূজার সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিভাগীয় স্টল পরিদর্শন করে, সৃজনশীল কাজের প্রদর্শনী দেখেন এবং একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই ধরনের আন্তঃবিভাগীয় মেলবন্ধন ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
আপনার ক্যাম্পাসে যদি কোনো সামাজিক থিমের ওপর ইভেন্টের পরিকল্পনা থাকে, তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত করে থিম নির্বাচন করা কার্যকর হতে পারে। এমন উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি শুধু সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তুলতে পারবেন।



