22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি পর্ষদে ১৯ দেশের নেতারা স্বাক্ষর করলেন

ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত শান্তি পর্ষদে ১৯ দেশের নেতারা স্বাক্ষর করলেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলার জন্য নতুন উদ্যোগের সূচনা করেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে ট্রাম্প ও ১৯ দেশের শীর্ষ নেতারা “বোর্ড অব পিস” (শান্তি পর্ষদ) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্পই এই সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চায়।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলি, যাদের ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি এবং ইন্দোনেশিয়া, কসোভো, মঙ্গোলিয়া ইত্যাদি উদীয়মান অর্থনীতির দেশও অংশগ্রহণ করে। ট্রাম্প স্বাক্ষরের সময় হালকা স্বরে মন্তব্য করেন, “এদের বেশিরভাগই জনপ্রিয় নেতা, কেউ কেউ ততটা নয়; জীবন এমনই।”

চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ১৯ দেশের নেতাদের তালিকায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, বাহরাইনের আমির শেখ ইসা বিন সালমান আল‑খলিফা, বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোজেন ঝেলিয়াজকভ, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম‑জোমার্ট টোকায়েভ, কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভজোসা ওসমানী, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গম্বোজাভিন জানদানশাতার, মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল‑থানি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল‑সৌদ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নির্বাহী বিষয়ক কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খালদুন আল‑মুবারক এবং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরোমোনোভিচ মিরজিওয়েভ অন্তর্ভুক্ত।

শান্তি পর্ষদের মোট সদস্য সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে ট্রাম্পের মতে সর্বোচ্চ ৫০টি দেশ এতে অংশ নিতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, অতিরিক্ত ৩৫টি দেশ এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়া কিছু দেশও রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না, যদিও তারা যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।

এই পর্ষদ গঠনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন মডেল তৈরি করা লক্ষ্য। ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থকরা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যেখানে সমালোচকরা যুক্তি দেন যে এই ধরনের সংস্থা বাস্তব নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল প্রতীকী হতে পারে।

পরবর্তী পর্যায়ে শান্তি পর্ষদ কীভাবে কাজ করবে তা নির্ধারণের জন্য প্রথম সভা পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে সদস্য দেশগুলোকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা বিষয়ক এজেন্ডা নির্ধারণের সুযোগ থাকবে। এছাড়া, পর্ষদের কার্যক্রমের জন্য তহবিল সংগ্রহ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সদস্য দেশগুলোর দায়িত্ববোধের কাঠামোও গঠন করা হবে।

শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে। তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর বাস্তবিক সহযোগিতা, নীতি সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির ওপর। ভবিষ্যতে এই সংস্থা কীভাবে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments