ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর সামরিক হুমকি এবং বাণিজ্যিক শুল্কের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করেছেন, যখন যুক্তরাজ্য ড্যানিশ ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ডেভিড ল্যামি বিবিসির “পলিটিক্যাল থিঙ্কিং” অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই পরিবর্তনটি ব্রিটেনের উদ্বেগের সরাসরি ফলাফল।
ল্যামি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর বলপ্রয়োগের হুমকি এবং আটটি দেশের ওপর ১০% শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত, হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ইউরোপীয় দেশগুলো পুনরায় আলোচনার পথে ফিরে এসেছে, যা পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।
ট্রাম্পের মূল দাবি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করা, বিশেষ করে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা বিবেচনা করে। যদিও তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, সামরিক হুমকি ত্যাগের পরও তিনি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কীর্স স্টার্মার ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তবে ট্রাম্প পূর্বে চাগোস দ্বীপের মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের চুক্তিকে “মহান বোকামি” বলে সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। স্টার্মার এই সমালোচনার পরেও তিনি কোনো শুল্ক আরোপের হুমকি দেননি।
ডাউনিং স্ট্রিটের সূত্র অনুযায়ী, ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাহারে গোপন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ল্যামি, যিনি পূর্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন, তিনি স্বীকার করেন যে তিনি কখনোই বিশ্বাস করেননি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে সামরিকভাবে অধিগ্রহণ করবে। তিনি অতীতে এই বিষয়ে “কখনোই না” বলে মন্তব্য করেছেন এবং এই সপ্তাহের পরিবর্তনকে যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অবস্থানের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ল্যামি আরও জানান, ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনটি কেবল যুক্তরাজ্যের নয়, বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত চাপের ফল। তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের পাশাপাশি অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সমর্থনকে উল্লেখ করেন, যা ট্রাম্পকে তার কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নীতি পুনর্গঠন এবং ন্যাটো জোটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক কার্যক্রমের মুখে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় আলোচনা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের স্ব-নির্ধারণের অধিকার রক্ষা করা এবং ড্যানিশ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনও দৃঢ় হতে পারে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও স্পষ্ট নীতি নির্ধারিত হবে বলে আশা করা যায়। ট্রাম্পের এই প্রত্যাহার যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা এবং ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর হুমকি প্রত্যাহার যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অবস্থান এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সমন্বিত চাপের ফল, যা আর্কটিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে।



