ঢাকা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ সকালে জামাত‑ই‑ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান রাজনৈতিক নেতাদের একে অপরকে আক্রমণ না করে, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে বক্তৃতা দেন। তিনি উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনী সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
বিমানবন্দরের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বললেন, “জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে যাকে সমর্থন করেন, তাকে গ্রহণ করবে, স্বীকৃতি দেবে এবং ভালোবাসা দেখাবে। এ বিষয়ে সকলেরই সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।
নির্বাচনী প্রতীক বণ্টনের পর থেকে প্রার্থীদের প্রচারাভিযান চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গতকাল থেকে প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন, একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্কও দেখা দিচ্ছে।
বিএনপি প্রথম দিনেই প্রতিপক্ষের ওপর অভিযোগ তুলতে শুরু করে, যার পর জামাত ও এনসিপি সমানভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। তবে এই বিতর্কের পাশাপাশি প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জামাতের ক্যাম্পেইন সরকারীভাবে গতকাল ঢাকা‑মিরপুরে একটি বৃহৎ র্যালির মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। শফিকুর রহমান ঢাকা‑১৫ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং এই র্যালিতে তিনি দলের মূল লক্ষ্য ও নীতি তুলে ধরেছেন।
আজ তিনি পঞ্চগড়ে র্যালি করবেন এবং এরপর দিনভর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে সমাবেশে অংশ নেবেন। র্যালির সময় তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছেন।
শুক্রবারের পরিকল্পনায় গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত। এই জেলাগুলোতে তিনি স্থানীয় সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সমর্থন আহ্বান করবেন।
বিমানবন্দরে তার শেষ মন্তব্যে তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রতিটি স্তরে কোনো ধরনের অবৈধ প্রভাব বা বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা উচিত নয়। রাষ্ট্রের কোনো স্তরে এমন কাজের অনুমতি নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শফিকুরের এই ঐক্যবদ্ধ আহ্বান ও ব্যাপক সফর উত্তরাঞ্চলের ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাত কমে এবং ভোটারদের স্বেচ্ছা পছন্দকে সম্মান করা হয়, তবে জামাতের নির্বাচনী ফলাফল ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান উভয়ই প্রভাবিত হবে।



