ডিজনি+ ২০২৪ সালের জানুয়ারি ২৭ তারিখে নতুন সিরিজ ‘ওয়ান্ডার ম্যান’ প্রকাশ করেছে। প্রধান চরিত্র সাইমন উইলিয়াম্সের ভূমিকায় ইয়াহ্যা আবদুল‑মাতিন ২ অভিনয় করেছেন; তিনি স্বপ্নদর্শী অভিনেতা, যার মধ্যে অজানা ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। পাশাপাশি বেন কিংসলি ট্যাভার স্লাটারির ভূমিকায় উপস্থিত, যাকে দর্শকরা ‘ইরন ম্যান ৩’‑এর ম্যান্ডারিনের ভানকারী হিসেবে চেনেন।
সাইমন কোনো সুপারহিরো নয়, তার কোনো বীরত্বের আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি সাধারণ মানুষের মতোই জীবনের উত্থান-পতন অনুভব করেন, তবে তার অদৃশ্য শক্তি তাকে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে টেনে নিয়ে যায়। তার লক্ষ্য হল অভিনয়ের বড় সুযোগ পাওয়া, আর এই পথে তিনি ট্যাভারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত সংযোগ গড়ে তোলেন।
‘ওয়ান্ডার ম্যান’ সিরিজটি মার্ভেল স্টুডিওর ‘মার্ভেল স্পটলাইট’ শিরোনামের অধীনে প্রকাশিত দ্বিতীয় শো, প্রথমটি ছিল ২০২৪ সালের ‘ইকো’। সিরিজের সৃষ্টিকর্তা হলেন ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন এবং অ্যান্ড্রু গেস্ট, যারা পূর্বে ‘শাং-চি অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অব দ্য টেন রিংস’‑এও কাজ করেছেন।
শোতে বেন কিংসলি, ইয়াহ্যা আবদুল‑মাতিন ২, আরিয়ান মোয়েড, এক্স মায়ো এবং জ্লাটকো বুরিক সহ আরও কয়েকজন অভিনেতা অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সিরিজের গল্পকে সমৃদ্ধ করে।
কাহিনীর মূল দিকটি হল সাইমন যখন বড় সুযোগের সন্ধানে থাকে, তখন তিনি ট্যাভার স্লাটারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ট্যাভার, যিনি পূর্বে ‘আয়রন ম্যান ৩’‑এ ম্যান্ডারিনের ভূমিকায় পরিচিত, এখন এক অদ্ভুত শিল্পী হিসেবে উপস্থিত। তাদের মিথস্ক্রিয়া সাইমনের জীবনে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা তাকে নিজের ক্ষমতা ও স্বপ্নের মধ্যে সমন্বয় করতে বাধ্য করে।
ট্যাভার স্লাটারির চরিত্রটি প্রথমে ২০১৩ সালের ‘আয়রন ম্যান ৩’‑এ দেখা যায়, যেখানে তিনি একটি ভুয়া সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। পরে ২০২১ সালের ‘শাং‑চি অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অব দ্য টেন রিংস’‑এও তিনি উপস্থিত ছিলেন, যা মার্ভেল ইউনিভার্সের ভিন্ন দিককে তুলে ধরেছে। ‘ওয়ান্ডার ম্যান’‑এ তার উপস্থিতি নতুন দর্শকদের জন্য যথেষ্ট পরিচিতি সরবরাহ করে।
শোটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সাইমনের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি হল লস এঞ্জেলেসের ট্র্যাফিক জ্যামে স্কুটার চালানো এক শিশুকে অনুসরণ করা, যা তার সুপারহিরো অভিযানের চেয়ে বেশি বাস্তবিক। এই ধরনের দৃশ্যগুলো সিরিজকে হালকা-মনোরম ড্রামেডি রূপে উপস্থাপন করে।
সাধারণত মার্ভেল সিনেমা ও সিরিজে সুপারহিরোদের বড় মিশন, মহাকাশ ভ্রমণ বা বিশাল যুদ্ধ দেখা যায়। তবে ‘ওয়ান্ডার ম্যান’ এই প্রচলিত ধাঁচ থেকে সরে এসে সাধারণ মানুষের সমস্যাকে কেন্দ্র করে, যা দর্শকদের সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করে। সাইমনের অস্বাভাবিক ক্ষমতা ও তার সাধারণ জীবনের মিশ্রণই শোকে আলাদা করে।
শোটি সম্পূর্ণভাবে ডিজনি+ প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিংয়ের জন্য উপলব্ধ, এবং প্রতি সপ্তাহে এক এক করে এপিসোড প্রকাশিত হয়। প্রথম এপিসোডের মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা সিরিজের স্বতন্ত্র শৈলী ও চরিত্রের গভীরতা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।
‘ওয়ান্ডার ম্যান’ একটি স্বতন্ত্র গল্প, তবে এটি মার্ভেল ইউনিভার্সের বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবেও বিবেচিত। যদিও এটি অন্য মার্ভেল শোর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়, তবে ট্যাভার স্লাটারির উপস্থিতি এবং ক্রেটন‑গেস্টের সৃষ্টিকর্তা দৃষ্টিভঙ্গি শোকে ঐক্যবদ্ধ করে।
সারসংক্ষেপে, ‘ওয়ান্ডার ম্যান’ সিরিজটি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে অদ্ভুত ক্ষমতার মিশ্রণকে হালকা-মনোরম রূপে উপস্থাপন করে। ইয়াহ্যা আবদুল‑মাতিন ২ এবং বেন কিংসলির পারফরম্যান্স শোকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে, এবং মার্ভেল ফ্যানদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছে। এই সিরিজটি মার্ভেল স্পটলাইটের ধারাবাহিকতা হিসেবে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে।



