আবুধাবিতে শুক্রবার রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল একত্রিত হয়েছে, যা মস্কোর পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন দেশের প্রথম সমন্বিত বৈঠক হিসেবে চিহ্নিত। আলোচনায় উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন, যেখানে শান্তি চুক্তির মূল শর্ত নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
কেমব্রিজে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের বৈঠকের পর রাশিয়ার সরকার নিশ্চিত করেছে যে তার প্রতিনিধিরা আবুধাবি মিটিংয়ে অংশ নেবে। পুতিনের সঙ্গে দুইজন রাশিয়ান সহকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন প্রতিনিধি, যার মধ্যে স्टीভ ওয়িটকফ এবং জ্যারেড কুশনার অন্তর্ভুক্ত, বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রাশিয়ার কেমব্রিজের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠককে “গঠনমূলক, স্পষ্ট এবং ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভূখণ্ডগত বিরোধ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। উশাকভের মতে, রাশিয়া তার “বিশেষ সামরিক অভিযান” চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না এই শর্ত পূরণ হয়।
পুতিনও বৈঠকে রাশিয়ার কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আলাস্কার অ্যানকরেজ শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত সূত্র অনুসারে, ভূখণ্ডগত সমস্যার সমাধান ছাড়া স্থায়ী সমঝোতা অর্জন করা সম্ভব নয়। এই সূত্রটি গত বছর ট্রাম্প-পুতিন শীর্ষ বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স्टीভ ওয়িটকফের মতে, রাশিয়া ইউক্রেনকে “দৃঢ়” নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করতে সম্মত হয়েছে, যা সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ওয়িটকফ পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে এই গ্যারান্টিগুলি ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে প্রদান করা হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ডাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভূখণ্ডগত বিষয়টি এখনও অনির্ধারিত বলে জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সবকিছুই জমির ওপর নির্ভরশীল, এবং এই বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। রাশিয়ানদেরকে পুনরায়…” এই মন্তব্যটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
জেলেনস্কি পূর্বে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইউরোপীয় মিত্রদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাবের জন্য সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, রাশিয়ার আক্রমণ থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় সংকল্প প্রয়োজন।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকটি ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত সমস্যার সমাধান ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত রাখে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রাখবে বলে জানিয়েছে।
বৈঠকের পর রাশিয়ার কেমব্রিজের উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, রাশিয়া “সত্যিকারের” কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হতে ইচ্ছুক, তবে তা ভূখণ্ডগত চুক্তির ভিত্তিতে হতে হবে। তিনি রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যগুলোকে স্থিতিশীল রাখতে এই শর্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার এই অবস্থানকে স্বীকার করে, তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি প্রদানকে অগ্রাধিকার দেবার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা ভবিষ্যৎ আলোচনায় এই গ্যারান্টিগুলি কীভাবে কার্যকর করা হবে তা নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তিন দেশের কূটনৈতিক দল ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি মৌলিক কাঠামো গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে যে পরবর্তী ধাপগুলোতে ভূখণ্ডগত বিরোধের সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই ত্রিপাক্ষিক আলোচনা সফল হয়, তবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ভবিষ্যৎ অবস্থান, রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমের অবসান এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন এই তিনটি মূল বিষয়ের সমাধান সম্ভব হতে পারে। তবে তা অর্জনের জন্য সকল পক্ষের দৃঢ় রাজনৈতিক ইচ্ছা ও বাস্তবিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।



