সনি পিকচার্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির সঙ্গে যুক্ত ব্লেক লাইভলির বিতর্ক সংক্রান্ত নথি উন্মোচনের পর প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন। এই নথিগুলোতে ইমেইল, টেক্সট মেসেজ এবং ডিপোজিশন ট্রান্সক্রিপ্ট অন্তর্ভুক্ত, যা চলচ্চিত্রের প্রোডাকশন ও প্রচার প্রক্রিয়ার পেছনের ঘটনাগুলোকে উন্মোচন করে।
ব্লেক লাইভলি এবং জাস্টিন বালডোনির মধ্যে চলমান আইনি লড়াইতে ডিসেম্বর ২০২৪-এ লাইভলি পরিচালক জাস্টিন বালডোনির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে বালডনি ও তার দল তার সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি সামাজিক প্রভাবিতকরণ ক্যাম্পেইন চালিয়েছে।
বালডনি তার পাল্টা মামলা দায়ের করেন, তবে তা জুন ২০২৫-এ আদালতে বাতিল হয়। এই মামলায় উভয় পক্ষের মধ্যে বহু বার্তা ও ইমেইল বিনিময় হয়েছে, যা সম্প্রতি আদালতের আদেশে প্রকাশিত হয়।
উন্মোচিত নথিগুলোর মধ্যে সনি পিকচার্সের প্রোডাকশন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সিনিয়র ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড্রিয়া জিয়ানেট্টির মন্তব্যও রয়েছে। তিনি জেমি হিথ প্রযোজকের সঙ্গে কথোপকথনে লাইভলিকে “একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী” বলে অভিহিত করেন, যখন তিনি জানেন যে লাইভলি ১৭টি পরিবর্তনের তালিকা পূরণ না হলে ছবিটি ছেড়ে দেবেন।
জিয়ানেট্টি উল্লেখ করেন যে ছবির জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং পরিবর্তন না হলে ছবিটি মুক্তি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “বড় টাকা খরচ হয়েছে, তাই ছবিটা শেষ করতে হবে, না হলে মুক্তি সম্ভব হবে না।” এই মন্তব্যগুলো ছবির আর্থিক দিক ও সময়সীমা সম্পর্কে স্টুডিওয়ের উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সনি পিকচার্সের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হলিউড রিপোর্টাররা অনুসন্ধান করেন, তবে প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্টুডিও থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে এই বিবরণগুলো মূলত উন্মোচিত নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
নথিগুলোর মধ্যে জেনি স্লেটের ডিপোজিশন ট্রান্সক্রিপ্টও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি লাইভলি ও বালডনি সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দেন। স্লেটের বিবরণে উভয় পক্ষের পারস্পরিক অভিযোগের সূক্ষ্ম দিকগুলো প্রকাশ পায়, যদিও তার মন্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ব্লেক লাইভলির টেক্সট মেসেজগুলোতে টেলর সুইফট ও বেন আফ্লেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথনও প্রকাশ পায়। এই মেসেজগুলোতে চলচ্চিত্রের প্রচার, ব্যক্তিগত মতামত এবং কিছু সময়ে আইনি কৌশল নিয়ে আলোচনা দেখা যায়। তবে মেসেজের মূল বিষয়গুলো চলচ্চিত্রের সাফল্য ও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
চলচ্চিত্রটি আগস্ট ২০২৪-এ থিয়েটারে মুক্তি পায় এবং প্রারম্ভিক সপ্তাহে ৫০ মিলিয়ন ডলার বক্স অফিস আয় করে। এই সাফল্যের পর জিয়ানেট্টি লাইভলিকে একটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ মেসেজ পাঠান, যেখানে তিনি তার কঠোর পরিশ্রম, বুদ্ধি ও হৃদয়কে প্রশংসা করেন এবং ৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্জনকে “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেন।
এই মেসেজে তিনি লিখেছেন, “ব্লেক, ৫০ মিলিয়ন! তোমার রক্ত, ঘাম, অশ্রু, বুদ্ধি ও হৃদয় প্রতিটি ফ্রেমে জড়িয়ে আছে। ঈশ্বরের কৃপায় এটা সম্ভব হয়েছে।” তিনি এই সাফল্যকে লাইভলির অবদান হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সনি পিকচার্সের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে দেখা যায় যে, স্টুডিও উচ্চ আর্থিক বিনিয়োগের কারণে ছবিটিকে সময়মতো সম্পন্ন করতে চায়, যদিও তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত বিরোধগুলো প্রকাশ্য হয়। এই পরিস্থিতি চলচ্চিত্র শিল্পে আর্থিক চাপ ও সৃজনশীল মতবিরোধের জটিলতা তুলে ধরে।
সামগ্রিকভাবে, উন্মোচিত নথিগুলো দেখায় যে ব্লেক লাইভলি, জাস্টিন বালডনি এবং সনি পিকচার্সের মধ্যে চলমান আইনি ও ব্যক্তিগত সংঘর্ষের পেছনে আর্থিক, সৃজনশীল ও মানবিক দিকগুলো জটিলভাবে জড়িয়ে আছে। ছবির বক্স অফিস সাফল্য সত্ত্বেও এই বিতর্ক চলচ্চিত্রের পরবর্তী প্রচার ও সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই ঘটনাগুলো বিনোদন জগতের মধ্যে ক্ষমতা, আর্থিক বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ দেয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রকল্পে স্টুডিও ও শিল্পীদের মধ্যে সমঝোতা ও আইনি কাঠামোর গুরুত্ব বাড়বে বলে ধারণা করা যায়।



