ডাভোসের অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরাবৃত্তি আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ক্যার্নির প্রতি দেশের সমর্থন দৃঢ় হয়েছে। ক্যার্নি আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী দেশগুলোকে অর্থনৈতিক সংহতি অস্ত্র ও শুল্কের মাধ্যমে ব্যবহার করার বিরোধিতা করে তীব্র ভাষণ দেন।
ক্যার্নি তার বক্তৃতায় জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিয়ম-ভিত্তিক শৃঙ্খলা আর কার্যকর নয় এবং মধ্যম শক্তিগুলোকে একত্রে কাজ করে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, টেবিলে না থাকলে মেনুতে নাম লেখার ঝুঁকি থাকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া তীব্র ছিল; তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করে ক্যার্নিকে পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের দান-সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞ হতে স্মরণ করিয়ে দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ডাভোসের ভিড়ের সামনে সরাসরি ক্যার্নিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়।
একদিন আগে ট্রাম্পের অফিসিয়াল সামাজিক প্ল্যাটফর্মে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকান পতাকায় ঢাকা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ছবি পোস্ট করা হয়, যা তার মন্তব্যের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা যায়।
ক্যার্নির ডাভোসে বক্তৃতা তার সাম্প্রতিক বিদেশি সফরের সমাপ্তি চিহ্নিত করে। গত সপ্তাহে তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যাতে কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন রাজনৈতিক বিজ্ঞান অধ্যাপক ক্যার্নির এই সাহসী অবস্থানকে কানাডিয়ানদের গর্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও কিছু নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ক্যার্নি জনসমক্ষে এত স্পষ্টভাবে কথা বলার মাধ্যমে দেশীয় গর্ব বাড়িয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বার্তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
অধিকন্তু, ক্যার্নি নিজে তার ভাষণ রচনা করেছেন বলে তার অফিসের তথ্য জানায়। এই বিষয়টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে, কারণ এটি সরকারের স্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের স্বরূপকে তুলে ধরে।
কিন্তু ক্যার্নির নীতি ও মন্তব্যের প্রভাব সব স্তরের নাগরিকের জন্য সমান নয়। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (CUSMA) থেকে সরাসরি উপকৃত বা নির্ভরশীল কর্মসংস্থানযুক্ত মানুষদের মধ্যে এই বক্তব্যের প্রতি প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
যারা এই চুক্তির মাধ্যমে কাজ করেন, তারা সম্ভাব্য বাণিজ্যিক পরিবর্তন ও নতুন নীতির ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন, আর অন্যদিকে যারা বৈচিত্র্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের অংশ, তারা ক্যার্নির স্বতন্ত্র অবস্থানকে সমর্থন করতে পারেন।
ডাভোসে ক্যার্নির বক্তৃতা ও ট্রাম্পের তীব্র মন্তব্যের পরবর্তী রাজনৈতিক ধাপগুলোতে কানাডার সরকার কীভাবে বাণিজ্য নীতি পুনর্বিবেচনা করবে এবং মধ্যম শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় বাড়াবে তা নজরে থাকবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ক্যার্নির এই পদক্ষেপ কানাডার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভারসাম্য পুনঃনির্ধারণে সহায়তা করতে পারে। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ডাভোসে ক্যার্নির তীব্র ভাষণ, ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং কানাডার বাণিজ্যিক কৌশলের পরিবর্তন একসাথে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের নীতি নির্ধারকদের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।



