বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পর দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলা কোনো ষড়যন্ত্রের প্রতি কঠোর বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। তিনি কেরাণীগঞ্জে ইউনিয়ন স্তরের বিএনপি নেতা হাসান মোল্লার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে নিন্দা করে বললেন, এমন কোনো সহিংস কাজের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা জনগণের স্বীকৃতি পাবে না। এই মন্তব্যের পটভূমিতে ঘটেছে কেরাণীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধের ঘটনা, যা রাত ৯টার দিকে ঘটেছে।
সেই সন্ধ্যায়, হযরতপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করা হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হন এবং তৎক্ষণাৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা দল জানায়, গুলির ফলে তার ডান পেটের অংশে আঘাত লেগেছে, যা তার শারীরিক অবস্থাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে। গুলির সঠিক দিকনির্দেশ এবং ঘটনার সময়সীমা সম্পর্কে মেডিকেল পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুকের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুলি আঘাতের স্থান নির্ণয় করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তের কাজ চলছে।
মির্জা ফখরুলের মতে, এই ধরনের ন্যক্কারজনক এবং বর্বর হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ঘটনার স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা অবনতির ফলে সাধারণ নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়েছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।
এই গুলিবিদ্ধের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে। বিএনপি নেতৃত্বের মতে, এমন হিংসা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তা জনগণের স্বীকৃতি পাবে না। মির্জা ফখরুলের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, জনগণ যদি এমন কোনো ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয় তবে তা স্বীকার্য হবে না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রে কাজ করতে হবে।
অপরদিকে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গুলিবিদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে। গুলির ধরন, গুলি চালানোর সময়ের সুনির্দিষ্ট সময় এবং গুলি চালানোর পদ্ধতি নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল যদি স্পষ্ট হয়, তবে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পেয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বের এই দৃঢ় অবস্থান দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি জানার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। যদিও এখনো কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি গুলিবিদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি করে না, তবে সকল পক্ষের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ এবং আইনি পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান চাওয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যদি উন্নত না হয় তবে নির্বাচনের ফলাফল ও গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই ঘটনার পর, নির্বাচনী সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যাতে ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। মির্জা ফখরুলের মতে, এই ধরনের হিংসা না থাকলে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে এবং জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সঠিক প্রতিনিধিত্ব পাবে।
সংক্ষেপে, কেরাণীগঞ্জে গুলিবিদ্ধের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিএনপি মহাসচিবের দৃঢ় নিন্দা ও তদন্তের দাবি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের হিংসা না থামে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকল রাজনৈতিক দল ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।



